কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলের জন্য জলপথটি উন্মুক্ত রয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের দাবিকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, ইরানের সঙ্গে আগাম সমন্বয় ছাড়া কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে পারবে না।
বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করে, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ “সম্পূর্ণ ও নিরঙ্কুশ”। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বক্তব্যকে তেলের বাজার ও যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার প্রচেষ্টা বলে অভিযোগ করেছে তারা।
ইরানের নৌবাহিনী জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রম বন্ধ না হওয়া এবং পূর্বের একটি চুক্তির প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে না।
তবে যুক্তরাষ্ট্র এ দাবির সঙ্গে একমত নয়। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালির আন্তর্জাতিক নৌপথ থেকে মাইন সরিয়ে ফেলেছে এবং সেখানে জাহাজ চলাচল চালু রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এর আগে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রয়েছে বলে দাবি করেছিলেন।
তবে হরমুজ প্রণালির প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ পরিস্থিতি নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পরস্পরবিরোধী দাবির কোনোটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আগের তুলনায় কমেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩০টি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করত, বর্তমানে তা কমে প্রায় ২৯টিতে নেমে এসেছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্য পরিবহন করা হয়। ফলে এই জলপথ ঘিরে উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্যসমূহ