দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, নারীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো গেলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে। একটি পরিবারের মেয়েরা শিক্ষিত ও কর্মক্ষম হয়ে উঠলে সেই পরিবারের আর্থিক সক্ষমতাও বাড়ে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদ হলরুমে দুঃস্থ, অসহায় ও মেধাবী শিক্ষার্থী এবং নির্যাতিত নারী ও শিশুদের কল্যাণ তহবিল থেকে অনুদানের চেক বিতরণ এবং ছাত্রীদের মধ্যে বাইসাইকেল প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, দেশের মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় অর্ধেক নারী। তাদের শিক্ষা, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে দেশের ভবিষ্যৎ আরও সমৃদ্ধ হবে। এ লক্ষ্যেই সরকার মা ও মেয়েদের বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তা ও উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, নারীদের এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে শুধু একজন ব্যক্তির জীবন নয়, পুরো পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব। একটি নারীকে স্বাবলম্বী করে তোলা মানেই একটি পরিবারকে স্বাবলম্বী হওয়ার পথে এগিয়ে দেওয়া।
মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার বিভিন্ন পর্যায়ে যে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে, তা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। অনুদানের অর্থ সবজি চাষ, বাগান করা, হাঁস-মুরগি পালনসহ বিভিন্ন আয়বর্ধক কাজে বিনিয়োগ করা হলে পরিবারের আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। এর ফলে সন্তানদের পড়াশোনা, খাদ্য ও চিকিৎসার ব্যয় মেটানোও সহজ হবে।
তিনি বলেন, সরকার দেশের বিভিন্ন পরিবারের নারী ও মেয়েদের স্বাবলম্বী করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে পরিবারগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সমাজের সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী আরও বলেন, সবাইকে নিয়ে একটি সুন্দর ও সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। মানুষের মধ্যে বিভেদ ও ক্রোধ না রেখে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সমাজ নির্মাণ করতে হবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠাই সরকারের লক্ষ্য।
মন্তব্যসমূহ