গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তেহরানের দেওয়া প্রস্তাবের বিপরীতে ওয়াশিংটনের পাঠানো জবাব পর্যালোচনা করছে ইরান। এই প্রক্রিয়া শেষ হলে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের অবস্থান জানাবে দেশটি।
সোমবার (১২ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।
তিনি জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তবে চলমান বার্তা বিনিময়ের বিষয়বস্তু কিংবা পরবর্তী আলোচনার সম্ভাব্য সময়সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এখনো গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্য রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র চায়, নতুন কোনো আলোচনা শুরু হলে প্রথম থেকেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে আলোচ্যসূচিতে রাখা হোক। অন্যদিকে ইরানের অবস্থান হলো, শুরুতে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং সেখানে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেতে হবে।
এর আগে গত রোববার ইরানের নিরাপত্তাবিষয়ক প্রধান জানান, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং আলোচনা পুনরায় শুরু করার জন্য তেহরান সাতটি শর্ত দিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের জবাবে এসব শর্ত যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাত শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরবর্তী সময়ে কাতার ও পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেয়।
গত জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই সমঝোতা ভেঙে যায় এবং বিরতি দিয়ে আবারও হামলার ঘটনা ঘটে।
এরপর সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন একটি প্রস্তাব দেয় ইরান। প্রস্তাবের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জবাব পাওয়ার কথাও পরে নিশ্চিত করে তেহরান। তবে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি।
হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রণালিটি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
এমন পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে দুই দেশের অবস্থান কতটা কাছাকাছি আসে, তা এখনো অনিশ্চিত। ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ জবাব পর্যালোচনা শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলা হয়েছে।
সূত্র : রয়টার্স
মন্তব্যসমূহ