বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে দাবি করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার স্বাধীন ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন কূটনৈতিক অবস্থান অনুসরণ করছে। তার ভাষায়, দেশ এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের স্বার্থ ও অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে পারছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বৈদেশিক মিশনগুলোর কার্যক্রম নিয়ে সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কবর রচনা করেছি।’ একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ কোনো দেশের কাছে মাথানত করবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তার দাবি, বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি আরও স্বাধীন ও জাতীয় স্বার্থকেন্দ্রিক হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দেশের সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে সব রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়াই সরকারের লক্ষ্য।
বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাস ও মিশনগুলোর কার্যকারিতা নিয়েও সংসদে আলোচনা হয়। শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং প্রবাসীদের সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোন মিশন কতটা সফল, তা নিয়মিত মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি জানান, বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের মিশনের কার্যক্রম আরও জবাবদিহিমূলক করতে ‘কী পারফরম্যান্স ইন্ডিকেটর’ বা কেপিআইভিত্তিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা তৈরির কাজ চলছে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে দূতাবাসগুলোর কাজের মান নির্ধারণ এবং তুলনামূলক মূল্যায়ন করা হবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী জাতীয় বাজেট উপস্থাপনের সময় বিভিন্ন মিশনের সাফল্য, সীমাবদ্ধতা ও কার্যক্রমের হালনাগাদ চিত্র সংসদ সদস্যদের সামনে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে সংসদের নজরদারি আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছে সরকার।
বিগত সরকারের সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিদেশি মিশনগুলোর কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় তদারকির ঘাটতি ছিল বলেও অভিযোগ করেন খলিলুর রহমান। তবে এটি সরকারের রাজনৈতিক মূল্যায়ন। তিনি দাবি করেন, বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর মিশনগুলোকে আরও সক্রিয় ও জবাবদিহিমূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বর্তমান বাজেট প্রয়োজনের তুলনায় কম বলেও সংসদে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য ১ হাজার ৮৪৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এর বড় অংশ বিদেশে বাংলাদেশের মিশন পরিচালনায় ব্যয় হয়।
খলিলুর রহমান আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় বাজেট বৃদ্ধি, কূটনৈতিক মিশনের কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন এবং নীতিগত সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কূটনীতি আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।
মন্তব্যসমূহ