ঢাকা    সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ স্পিকারের, এমপিদের শৃঙ্খলা মানার আহ্বান

সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ স্পিকারের, এমপিদের শৃঙ্খলা মানার আহ্বান
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম | ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

জাতীয় সংসদের কার্যক্রমে একে অপরকে কথা বলতে বাধা দেওয়ার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। তিনি বলেছেন, এ ধরনের আচরণ অব্যাহত থাকলে সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার সময় সদস্যদের উদ্দেশে স্পিকার এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, বহু ত্যাগ ও সংগ্রামের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই সংসদীয় গণতন্ত্র কার্যকর রাখতে প্রত্যেক সদস্যকে সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি মেনে চলতে হবে। স্পিকার কথা বলার সময় সবাইকে নিজ নিজ আসনে বসে বক্তব্য শোনার নিয়মও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

দিনের অধিবেশনে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর একটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়।

হাসনাতের প্রশ্নের প্রতিক্রিয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘স্পিকার, এটা প্রশ্ন হলো, না পল্টনের বক্তৃতা হলো বুঝতে পারিনি।’

এই মন্তব্যের পর কয়েকজন সংসদ সদস্য প্রতিবাদ জানালে অধিবেশন কক্ষে হট্টগোল শুরু হয়। একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যদি কথাই না বলতে দেন, তাহলে কীসের বাকস্বাধীনতা।’

বিরোধীদলের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবিও তোলা হয়।

পরে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, সংসদে কাউকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে কথা বলা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে দুঃখ প্রকাশের দাবিও জানান।

এরপর পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন স্পিকার। তিনি বলেন, সংসদে প্রত্যেক সদস্যের কথা বলার অধিকার রয়েছে এবং যুক্তির মাধ্যমে একে অপরের বক্তব্য খণ্ডন করাই সংসদীয় সংস্কৃতির অংশ। তবে কাউকে বক্তব্য দিতে বাধা দেওয়া উচিত নয়।

স্পিকার জানান, বিরোধীদলের উত্থাপিত আপত্তি তিনি পর্যালোচনা করবেন। একই সঙ্গে সংসদ পরিচালনায় সদস্যদের সহযোগিতা চান তিনি।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, দীর্ঘ সংসদীয় অভিজ্ঞতায় অতীতেও অনেক নেতিবাচক ঘটনা তিনি দেখেছেন। বর্তমান সংসদকে তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে রাখতে হলে সরকারি ও বিরোধী উভয় পক্ষকেই সংযম ও ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে।

তিনি সদস্যদের উদ্দেশে আরও বলেন, সংসদীয় শৃঙ্খলা ও নিয়ম মেনে চলা না হলে প্রতিষ্ঠানটির কার্যকারিতা ও গ্রহণযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে তা প্রকাশ করার আহ্বান জানান স্পিকার।

ট্যাগ : স্পিকার জাতীয় সংসদ হাফিজ উদ্দিন আহমদ

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬


সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ স্পিকারের, এমপিদের শৃঙ্খলা মানার আহ্বান

প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

জাতীয় সংসদের কার্যক্রমে একে অপরকে কথা বলতে বাধা দেওয়ার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। তিনি বলেছেন, এ ধরনের আচরণ অব্যাহত থাকলে সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার সময় সদস্যদের উদ্দেশে স্পিকার এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, বহু ত্যাগ ও সংগ্রামের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই সংসদীয় গণতন্ত্র কার্যকর রাখতে প্রত্যেক সদস্যকে সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি মেনে চলতে হবে। স্পিকার কথা বলার সময় সবাইকে নিজ নিজ আসনে বসে বক্তব্য শোনার নিয়মও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

দিনের অধিবেশনে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর একটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়।

হাসনাতের প্রশ্নের প্রতিক্রিয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘স্পিকার, এটা প্রশ্ন হলো, না পল্টনের বক্তৃতা হলো বুঝতে পারিনি।’

এই মন্তব্যের পর কয়েকজন সংসদ সদস্য প্রতিবাদ জানালে অধিবেশন কক্ষে হট্টগোল শুরু হয়। একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যদি কথাই না বলতে দেন, তাহলে কীসের বাকস্বাধীনতা।’

বিরোধীদলের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবিও তোলা হয়।

পরে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, সংসদে কাউকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে কথা বলা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে দুঃখ প্রকাশের দাবিও জানান।

এরপর পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন স্পিকার। তিনি বলেন, সংসদে প্রত্যেক সদস্যের কথা বলার অধিকার রয়েছে এবং যুক্তির মাধ্যমে একে অপরের বক্তব্য খণ্ডন করাই সংসদীয় সংস্কৃতির অংশ। তবে কাউকে বক্তব্য দিতে বাধা দেওয়া উচিত নয়।

স্পিকার জানান, বিরোধীদলের উত্থাপিত আপত্তি তিনি পর্যালোচনা করবেন। একই সঙ্গে সংসদ পরিচালনায় সদস্যদের সহযোগিতা চান তিনি।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, দীর্ঘ সংসদীয় অভিজ্ঞতায় অতীতেও অনেক নেতিবাচক ঘটনা তিনি দেখেছেন। বর্তমান সংসদকে তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে রাখতে হলে সরকারি ও বিরোধী উভয় পক্ষকেই সংযম ও ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে।

তিনি সদস্যদের উদ্দেশে আরও বলেন, সংসদীয় শৃঙ্খলা ও নিয়ম মেনে চলা না হলে প্রতিষ্ঠানটির কার্যকারিতা ও গ্রহণযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে তা প্রকাশ করার আহ্বান জানান স্পিকার।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ