নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম কার্যদিবসে প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হয়। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে নেপালের দুর্যোগে নিহতদের প্রতি শোক ও ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়। পরে প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
শোক প্রস্তাব গ্রহণের পর সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। পরে নিহতদের স্মরণে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন ধর্মমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ।
এর আগে বুধবার (২৬ আগস্ট) নেপালে বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ ও দেশটির জনগণের প্রতি বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে প্রয়োজন হলে নেপালকে সহায়তা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে দুর্যোগকবলিত নেপালে মানবিক সহায়তা পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য জরুরি ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সহায়তার তালিকায় রয়েছে তাঁবু, মশারি, শুকনো খাবারের প্যাকেট, টর্চলাইট, বেলচা, স্লিপিং ব্যাগ, পানি সংরক্ষণের পাত্র এবং বডি ব্যাগসহ বিভিন্ন জরুরি সামগ্রী।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানও নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানালের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। আলোচনায় উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী বাংলাদেশের সহায়তার বিষয়টি উঠে আসে। নেপাল সরকার ক্ষয়ক্ষতি ও প্রয়োজনের ধরন নির্ধারণের পর বাংলাদেশকে জানাবে বলে জানিয়েছে।
মন্তব্যসমূহ