সরকারি ১৮টি পরিত্যক্ত বাড়ি বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগে প্রায় ১৯ বছর আগে করা ১৫টি মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। একই অভিযোগের একটি মামলায় অর্থমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকেও খালাস দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক মুহাম্মদ কামরুল হাসান খান এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও উপস্থিত ছিলেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ঢাকার গুলশান, ধানমন্ডি, শান্তিনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় থাকা ১৮টি পরিত্যক্ত সরকারি বাড়ি বিক্রিতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৭ সালের ২৯ মার্চ দুর্নীতি দমন কমিশন পৃথক ১৫টি মামলা করে। এসব মামলায় মির্জা আব্বাসসহ মোট ২১ জনকে বিভিন্নভাবে আসামি করা হয়।
দুদকের অভিযোগ ছিল, বাড়িগুলো বিক্রির ক্ষেত্রে দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করা হয় এবং কম মূল্যে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে সম্পত্তি বিক্রির মাধ্যমে রাষ্ট্রের ১২৭ কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৯ টাকা ক্ষতি করা হয়। তৎকালীন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী মির্জা আব্বাস ক্ষমতার অপব্যবহার করে এ প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রেখেছিলেন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছিল।
মির্জা আব্বাসসহ ১২ জনকে প্রতিটি মামলায় আসামি করা হয়েছিল। অন্যদের মধ্যে ছিলেন এস এম জাফর উল্লাহ, এমদাদুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী, গোলাম নবী, কাজী রিয়াজুল মনির, জিয়াউদ্দিন আহমেদ, আব্দুস সাদেক, হুমায়ন খান, মীর মোশাররফ হোসেন, ইকবাল উদ্দিন চৌধুরী ও শহীদ আলম।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে একটি মামলায় এবং বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানকে দুটি মামলায় আসামি করা হয়েছিল। এ ছাড়া আরও কয়েকজন পৃথক মামলায় আসামি ছিলেন। বৃহস্পতিবার ঘোষিত রায়ে তারাও খালাস পেয়েছেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে মামলাগুলোতে অভিযোগ গঠনের পর দীর্ঘ সময় ধরে বিচার কার্যক্রম চলে। আদালত মোট ২৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে। সাক্ষ্য, নথিপত্র ও অন্যান্য উপাত্ত পর্যালোচনার পর আদালত আসামিদের খালাসের রায় দেন।
মামলাগুলোতে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছিল।
মন্তব্যসমূহ