ইরানের পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোকেমিক্যাল বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগে ভারতের চারটি প্রতিষ্ঠান ও তিন নাগরিকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের অর্থের উৎস বন্ধ করতে ওয়াশিংটনের নতুন ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ অভিযানের অংশ হিসেবে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ২৪ আগস্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরান ও দেশটির অর্থনৈতিক সহযোগীদের বিরুদ্ধে নতুন এই অভিযান শুরুর ঘোষণা দেয়। ওয়াশিংটন এটিকে ইরানের বিরুদ্ধে সমন্বিত অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা ভারতভিত্তিক চার প্রতিষ্ঠান হলো পোরটিজ পার্টনার্স এলএলপি, সদাশিবা ওভারসিজ লিমিটেড, পিপি সফটটেক প্রাইভেট লিমিটেড এবং প্রকৃতিস ইনফ্রা ইমপেক্স ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড।
একই সঙ্গে পোরটিজ পার্টনার্সের দুই অংশীদার হরিশ রামচন্দ্র রাঙ্গি ও ইন্দ্রিসমিয়া আশরাফমিয়া শেখ এবং পিপি সফটটেকের প্রশান্ত গার্গকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।
ওয়াশিংটনের অভিযোগ, পোরটিজ পার্টনার্স ইরান থেকে ভারতে পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য আমদানির চালান পরিচালনায় সহযোগিতা করেছে।
সদাশিবা ওভারসিজের বিরুদ্ধে প্রায় ৬ কোটি ৯০ লাখ ডলারের ইরানি পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে পিপি সফটটেক ও প্রকৃতিস ইনফ্রা ইমপেক্সের বিরুদ্ধে প্রায় আড়াই কোটি ডলার করে ইরানি পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির অভিযোগ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরান থেকে পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য কেনা, সংগ্রহ, বিক্রি, পরিবহন অথবা বাজারজাতকরণসংক্রান্ত উল্লেখযোগ্য লেনদেনে জেনেশুনে জড়িত থাকার কারণেই এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
একই দিনে ইরানের অর্থনৈতিক নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে আরও বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রশাসনের লক্ষ্য ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল খাত থেকে আসা রাজস্ব কমিয়ে দেশটির ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো।
নতুন নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারত-ইরান বাণিজ্যের ওপরও চাপ বাড়তে পারে। রয়টার্স জানিয়েছে, নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেনে বাধা তৈরি হওয়ায় ভারতের ইরানমুখী রপ্তানি আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে এই নিষেধাজ্ঞা ভারত সরকারের বিরুদ্ধে নয়। নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ইরানের পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোকেমিক্যাল বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তাই সংবাদে ‘ভারতের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা’ না লিখে ‘ভারতের চার প্রতিষ্ঠান ও তিন নাগরিকের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা’ লেখা বেশি নির্ভুল।
সূত্র: রয়টার্স।
মন্তব্যসমূহ