পবিত্র মক্কা ও মদিনা নগরীর নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, পবিত্র দুই নগরীর সুরক্ষায় সৌদি আরব বাংলাদেশের সহযোগিতা চাইলে বাংলাদেশ ইতিবাচকভাবে সাড়া দিতে প্রস্তুত।
একই সঙ্গে সৌদি আরবের সঙ্গে দীর্ঘদিনের শ্রমবাজার ও রেমিট্যান্সনির্ভর সম্পর্কের বাইরে জ্বালানি, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণে আগ্রহী বাংলাদেশ।
এ বিষয়ে একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে আলোচনাকালে সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহবুব হাসান সালেহ বলেন, মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তার বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট। পবিত্র নগরী দুটির নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে এবং সৌদি আরব সহযোগিতা চাইলে বাংলাদেশ পাশে থাকার বিষয়টি বিবেচনা করবে।
তবে সেই সহযোগিতা সামরিক, কূটনৈতিক নাকি অন্য কোনো কাঠামোর মাধ্যমে দেওয়া হবে, তা পরিস্থিতি ও সৌদি আরবের অনুরোধের ওপর নির্ভর করবে।
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানকে নিয়ে আলোচিত ‘মক্কা প্যাক্ট’ প্রসঙ্গে সাবেক এই রাষ্ট্রদূত বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য বড় একটি সক্ষমতা।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের কোনো জোটে যোগ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ এলে বাংলাদেশ তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।
বিশ্ব রাজনীতির পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও কথা বলেন মাহবুব হাসান সালেহ। তিনি বলেন, বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থায় বাংলাদেশকে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনার ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
তার মতে, কোনো নির্দিষ্ট শক্তির দিকে ঝুঁকে না পড়ে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়াই হবে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক কৌশল।
বিশ্লেষকদের আলোচনায় উঠে এসেছে, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক শুধু শ্রমবাজার ও প্রবাসী আয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে অর্থনীতি, প্রযুক্তি, জ্বালানি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো কৌশলগত ক্ষেত্রেও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।
মন্তব্যসমূহ