ট্রান্সজেন্ডারবিষয়ক শব্দ বাতিল, কাদিয়ানি সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা এবং হিজবুত তাওহীদকে নিষিদ্ধ করাসহ সাত দফা দাবি জানিয়েছে ঈমান-আকিদা সংরক্ষণ কমিটি।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত জাতীয় উলামা-মাশায়েখ কনভেনশন থেকে সরকারের কাছে এসব দাবি জানানো হয়।
কনভেনশনে উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, মহান আল্লাহ, রাসুল (সা.), পবিত্র কোরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাস করা। একই সঙ্গে কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন পাস না করা, প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা এবং জাতীয় শিক্ষা সিলেবাসের ধর্মশিক্ষার বইয়ে নবী-রাসুল ও সাহাবিদের জীবনচরিত অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়।
এছাড়া জাতীয় সংসদে পাস হওয়া শ্রম আইন থেকে ট্রান্সজেন্ডারবিষয়ক শব্দগুলো বাতিল করে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর চিন্তা-চেতনার আলোকে দ্বি-লিঙ্গ নীতি ঘোষণা এবং মুসলিম পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিষয়ে হাইকোর্টে স্বতন্ত্র শরিয়াহ বেঞ্চ গঠনের দাবিও জানানো হয়।
কনভেনশনে বক্তারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের ঈমান-আকিদা ও বিশ্বাস সংরক্ষণে ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্টি এবং ইসলামবিরোধী ও বিভ্রান্তিকর মতবাদ প্রতিরোধে জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তারা বলেন, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর ঈমান-আকিদা, ইসলামী মূল্যবোধ ও ধর্মীয় চেতনা রক্ষা করা জরুরি। বিভিন্ন নামে ও মতাদর্শে পরিচালিত ভ্রান্ত ও ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আলেম-ওলামা, ইসলামী চিন্তাবিদ ও ধর্মপ্রাণ জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হতে হবে।
মাওলানা আব্দুল আউয়ালের সভাপতিত্বে এবং মুফতি সুলতান মহিউদ্দীন ও মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজীর যৌথ পরিচালনায় কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর অনুপস্থিতিতে তার বক্তব্য পাঠ করে শোনানো হয়।
বক্তব্যে বলা হয়, বর্তমান সময়ে ঈমান-আকিদা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে। এ অবস্থায় কোরআন-সুন্নাহর আলোকে সঠিক আকিদা সংরক্ষণ, বিভ্রান্তিকর মতাদর্শ সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা এবং দেশের সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ রক্ষায় ওলামায়ে কেরামের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
বক্তব্যে আরও বলা হয়, কাদিয়ানিদের অমুসলিম হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে ঘোষণা করা এবং সাধারণ মুসলমানদের তাদের ঈমানবিধ্বংসী প্রচারণা থেকে রক্ষা করা সময়ের দাবি। একই সঙ্গে ইসলামের সঠিক ভাবমূর্তি ও সালাফে সালেহীনের পথ অক্ষুণ্ণ রাখতে মওদূদীবাদের মতাদর্শিক ভুল ও বিভ্রান্তি সম্পর্কেও উম্মাহকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান বলেন, হিজবুত তাওহীদ দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত ও বিভ্রান্তিকর মতবাদ প্রচারের মাধ্যমে মুসলিম সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। সংগঠনটির কার্যক্রম তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা আব্দুল আউয়াল বলেন, ইসলামী মূল্যবোধ ও সাংবিধানিক অধিকার সমুন্নত রেখে সমাজে নৈতিকতা, শালীনতা ও পারিবারিক মূল্যবোধ রক্ষায় রাষ্ট্রকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদা-বিশ্বাস সংরক্ষণে জাতীয়ভাবে গণসচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
কনভেনশনে আরও বক্তব্য দেন মধুপুরের পীর আল্লামা আব্দুল হামিদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, আল্লামা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী, মুফতি মুহাম্মদ আবুল মালেক, অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান চৌধুরী, মুফতি জসিম উদ্দিন হাটহাজারী, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ সাদী ও মাওলানা মহিউদ্দিন রাব্বানী।
প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম। বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন পাকিস্তানের মাওলানা ইলিয়াস গুম্মান। এছাড়া দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের উলামারা কনভেনশনে বক্তব্য দেন।
মন্তব্যসমূহ