দেশের অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ উৎপাদন ও সরবরাহের দায়িত্ব সরকারি মালিকানাধীন এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডকে (ইডিসিএল) দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প মালিক সমিতি (বাপি)।
সংগঠনটির নেতারা বলছেন, অনেক অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ উৎপাদন করে বেসরকারি কোম্পানিগুলোর জন্য বাজারে টিকে থাকা অর্থনৈতিকভাবে কঠিন। এ কারণে জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় এসব ওষুধের উৎপাদন ও সরবরাহে ইডিসিএলকে আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন তারা।
সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাপির কার্যালয়ে বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএইচআরএফ) সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সংগঠনটির নেতারা এসব কথা বলেন।
সভায় বাপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ডেল্টা ফার্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মো. জাকির হোসাইন বলেন, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ এমন ওষুধ, যা সবসময় বাজার ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকা প্রয়োজন। রোগীদের চাহিদা অনুযায়ী এসব ওষুধ দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীদের জন্য সরবরাহ করা ওষুধের একটি বড় অংশ ইডিসিএল থেকে আসে। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে এবং সরকারি সহায়তাও পেয়ে থাকে। দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের পাঁচটি কারখানা রয়েছে। ফলে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ উৎপাদনে প্রতিষ্ঠানটিকে দায়িত্ব দেওয়া হলে সরবরাহ নিশ্চিত করা সহজ হবে।
বাপির সাধারণ সম্পাদক ও হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ হালিমুজ্জামান বলেন, সময়ের সঙ্গে দেশের অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা পর্যালোচনা ও হালনাগাদ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে এসব ওষুধের গুণগত মান নিশ্চিত করে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে হবে।
তিনি বলেন, অত্যাবশ্যকীয় অনেক ওষুধ উৎপাদন করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ব্যবসায়িকভাবে টিকে থাকা কঠিন। ১৯৯৪ সালে নির্ধারিত ১১৭টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকার অনেক ওষুধ বর্তমানে অল্প পরিমাণে উৎপাদিত হচ্ছে। এসব ওষুধের কিছু উৎপাদন অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক নয়।
এ কারণে ইডিসিএলের মাধ্যমে এসব ওষুধ উৎপাদন করে জনগণের কাছে কম দামে সরবরাহের পাশাপাশি প্রয়োজন হলে বিনামূল্যে বিতরণের বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে বলে মত দেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় বাপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও ইউনিমেড ফার্মাসিউটিক্যালসের চেয়ারম্যান মো. মোসাদ্দেক হোসেন দেশের ওষুধশিল্পের সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, বিশ্বের অল্পসংখ্যক দেশ ওষুধ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে, বাংলাদেশ তাদের মধ্যে একটি। দেশের ওষুধশিল্প আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রতিযোগিতা করছে এবং রপ্তানির ক্ষেত্রে বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে।
দেশীয় ওষুধশিল্প দুর্বল হলে বিদেশি কোম্পানিগুলো বাজারের বড় অংশ দখল করে নিতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। তাই এমন কোনো নীতি নেওয়া উচিত নয়, যা দেশের ওষুধশিল্পের বিকাশ ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
সভায় বাপির নেতারা বলেন, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশীয় ওষুধশিল্পের বিকাশ ও সক্ষমতা ধরে রাখতে সরকারের নীতিতে ভারসাম্য থাকা প্রয়োজন।
মন্তব্যসমূহ