ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধকে কেবল অর্থনৈতিক চাপ হিসেবে নয়, চলমান সংঘাতেরই অংশ হিসেবে দেখছেন দেশটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ মোহসেন ফারখানি। তার মতে, এসব পদক্ষেপের জবাব দেওয়া তেহরানের জন্য প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত এবং তেহরানের নিরাপত্তা নীতি নিয়ে আল জাজিরার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ফারখানি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে ইরানকে দুর্বল করতে চাইছে এবং এই প্রচেষ্টায় নিজেদের মিত্রদেরও যুক্ত করার চেষ্টা করছে।
ফারখানি বলেন, ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ দুটিই যুদ্ধের অংশ। ফলে তেহরান এগুলোকে শুধু অর্থনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করছে না, বরং জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয় হিসেবেও দেখছে।
তার মতে, মার্কিন চাপের কারণে চীন, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশ ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য সীমিত করতে পারে। তবে এসব দেশের সঙ্গে তেহরানের সম্পর্ক পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা কম।
তিনি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক, ইরাক, পাকিস্তান কিংবা চীন যদি মার্কিন চাপের মুখে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য কমিয়ে দেয়, তাহলে তেহরান সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অবস্থান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রসঙ্গে ফারখানি বলেন, ইরানের সঙ্গে দেশটির বাণিজ্য কমানোর পেছনে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের চাপ কাজ করছে। তবে দীর্ঘদিনের প্রতিবেশী হিসেবে দুই দেশের মধ্যে গভীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক যোগাযোগ থাকায় সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করা সহজ নয়।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, তেহরান এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি মোকাবিলায় তুলনামূলক সংযত অবস্থান নিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক প্রস্তাব ও সিদ্ধান্ত বিবেচনায় রেখে নিজেদের নীতি নির্ধারণের চেষ্টা করছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা, অবরোধ ও সামরিক চাপ অব্যাহত থাকলে ইরানের নিরাপত্তা নীতিতে আরও কঠোর অবস্থান প্রাধান্য পেতে পারে বলে মনে করেন ফারখানি।
মন্তব্যসমূহ