ঢাকা    বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

এলএনজি কার্গো আসায় কমছে গ্যাসের সংকট

এলএনজি কার্গো আসায় কমছে গ্যাসের সংকট
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

তিন দিন বন্ধ থাকার পর আবারও পাইপলাইনে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ শুরু করেছে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনাল। নতুন একটি এলএনজি কার্গো নিয়ে জাহাজ বঙ্গোপসাগরে পৌঁছানোর পর শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেল থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। এতে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় ঘাটতি থাকায় গ্যাস-সংকট পুরোপুরি কাটতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

এলএনজি আমদানি ও সরবরাহ কার্যক্রম পেট্রোবাংলার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শনিবার দুপুর ২টা থেকে এক্সিলারেট টার্মিনাল প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১০ কোটি ঘনফুট হারে গ্যাস সরবরাহ শুরু করে। রাতের দিকে সরবরাহ আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

এর আগে দীর্ঘদিনের গ্যাস-সংকটের পর গত ১৫ আগস্ট সামিটের টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় এবং এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিকভাবে চালু হলে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হয়। তবে নতুন এলএনজি কার্গো না আসায় এক্সিলারেটের মজুত দ্রুত কমে যায়। একপর্যায়ে গত বুধবার বিকেল থেকে টার্মিনালটির সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

নতুন জাহাজ আসার পর শনিবার টার্মিনালে থাকা এলএনজি থেকে সরবরাহ আবার শুরু করা হয়েছে। একই সময়ে সামিট টার্মিনালও গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে।

দেশে গত প্রায় নয় বছর ধরে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমছে। ঘাটতি পূরণে ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি এক্সিলারেট এনার্জি এবং অন্যটি সামিটের মালিকানাধীন।

গত ২১ জুলাই অগ্নিকাণ্ডের পর এক্সিলারেটের টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে ১৫ আগস্ট এটি পূর্ণাঙ্গভাবে সরবরাহের জন্য প্রস্তুত হলেও নতুন কার্গো না আসায় পুরোনো মজুতের ওপর নির্ভর করে সীমিত পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। এ সময় এক্সিলারেটের ঘাটতি সামাল দিতে সামিট টার্মিনালকে বাড়তি পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ করতে হয়েছে।

পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএল সূত্র অনুযায়ী, দেশে প্রতিদিন প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে সর্বোচ্চ প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে এলএনজি থেকে সাধারণত প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্য থাকে। তবে গত এক মাস ধরে এলএনজি সরবরাহ সক্ষমতার তুলনায় অনেক কম ছিল।

শনিবার দুপুর ১২টার দিকে এলএনজি থেকে প্রায় ৫৮ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছিল। বিকেলে তা বেড়ে ৬৮ কোটি ঘনফুটে পৌঁছায়। এতে জাতীয় পর্যায়ে মোট গ্যাস সরবরাহ বেড়ে প্রায় ২৩০ কোটি ঘনফুট হয়েছে। রাতে এলএনজি সরবরাহ ৭৫ কোটি ঘনফুটে উন্নীত হলে মোট সরবরাহ প্রায় ২৩৭ কোটি ঘনফুটে পৌঁছাতে পারে। আগামী কয়েক দিন এ মাত্রায় সরবরাহ অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এলএনজি সংকটের অন্যতম কারণ সময়মতো কার্গো না আসা। নিয়মিত প্রক্রিয়ার বাইরে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কম দামে এলএনজি কেনার জন্য কয়েকটি কার্গোর ক্রয়াদেশ দেওয়া হলেও আগস্টে নির্ধারিত চারটি কার্গোর কোনোটিই সময়মতো আসেনি। এতে টার্মিনাল প্রস্তুত থাকলেও পর্যাপ্ত এলএনজি না থাকায় গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হয়নি।

এদিকে এ মাসের জন্য দরপত্রের মাধ্যমে দুটি এলএনজি কার্গো সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি কার্গো শনিবার দুপুরে দেশে পৌঁছেছে। রাতেই সেটি থেকে টার্মিনালে এলএনজি খালাসের কথা রয়েছে। অপর কার্গোটি আগামী ২৬ বা ২৭ আগস্ট দেশে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে নতুন কার্গো এলেও বর্তমানে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। ফলে এলএনজি সরবরাহ বাড়লেও দেশে চলমান গ্যাস-সংকট তাৎক্ষণিকভাবে পুরোপুরি দূর হওয়ার সম্ভাবনা কম।

ট্যাগ : এলএনজি গ্যাস সংকট

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬


এলএনজি কার্গো আসায় কমছে গ্যাসের সংকট

প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

তিন দিন বন্ধ থাকার পর আবারও পাইপলাইনে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ শুরু করেছে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনাল। নতুন একটি এলএনজি কার্গো নিয়ে জাহাজ বঙ্গোপসাগরে পৌঁছানোর পর শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেল থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। এতে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় ঘাটতি থাকায় গ্যাস-সংকট পুরোপুরি কাটতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

এলএনজি আমদানি ও সরবরাহ কার্যক্রম পেট্রোবাংলার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শনিবার দুপুর ২টা থেকে এক্সিলারেট টার্মিনাল প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১০ কোটি ঘনফুট হারে গ্যাস সরবরাহ শুরু করে। রাতের দিকে সরবরাহ আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

এর আগে দীর্ঘদিনের গ্যাস-সংকটের পর গত ১৫ আগস্ট সামিটের টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় এবং এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিকভাবে চালু হলে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হয়। তবে নতুন এলএনজি কার্গো না আসায় এক্সিলারেটের মজুত দ্রুত কমে যায়। একপর্যায়ে গত বুধবার বিকেল থেকে টার্মিনালটির সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

নতুন জাহাজ আসার পর শনিবার টার্মিনালে থাকা এলএনজি থেকে সরবরাহ আবার শুরু করা হয়েছে। একই সময়ে সামিট টার্মিনালও গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে।

দেশে গত প্রায় নয় বছর ধরে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমছে। ঘাটতি পূরণে ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি এক্সিলারেট এনার্জি এবং অন্যটি সামিটের মালিকানাধীন।

গত ২১ জুলাই অগ্নিকাণ্ডের পর এক্সিলারেটের টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে ১৫ আগস্ট এটি পূর্ণাঙ্গভাবে সরবরাহের জন্য প্রস্তুত হলেও নতুন কার্গো না আসায় পুরোনো মজুতের ওপর নির্ভর করে সীমিত পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। এ সময় এক্সিলারেটের ঘাটতি সামাল দিতে সামিট টার্মিনালকে বাড়তি পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ করতে হয়েছে।

পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএল সূত্র অনুযায়ী, দেশে প্রতিদিন প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে সর্বোচ্চ প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে এলএনজি থেকে সাধারণত প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্য থাকে। তবে গত এক মাস ধরে এলএনজি সরবরাহ সক্ষমতার তুলনায় অনেক কম ছিল।

শনিবার দুপুর ১২টার দিকে এলএনজি থেকে প্রায় ৫৮ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছিল। বিকেলে তা বেড়ে ৬৮ কোটি ঘনফুটে পৌঁছায়। এতে জাতীয় পর্যায়ে মোট গ্যাস সরবরাহ বেড়ে প্রায় ২৩০ কোটি ঘনফুট হয়েছে। রাতে এলএনজি সরবরাহ ৭৫ কোটি ঘনফুটে উন্নীত হলে মোট সরবরাহ প্রায় ২৩৭ কোটি ঘনফুটে পৌঁছাতে পারে। আগামী কয়েক দিন এ মাত্রায় সরবরাহ অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এলএনজি সংকটের অন্যতম কারণ সময়মতো কার্গো না আসা। নিয়মিত প্রক্রিয়ার বাইরে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কম দামে এলএনজি কেনার জন্য কয়েকটি কার্গোর ক্রয়াদেশ দেওয়া হলেও আগস্টে নির্ধারিত চারটি কার্গোর কোনোটিই সময়মতো আসেনি। এতে টার্মিনাল প্রস্তুত থাকলেও পর্যাপ্ত এলএনজি না থাকায় গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হয়নি।

এদিকে এ মাসের জন্য দরপত্রের মাধ্যমে দুটি এলএনজি কার্গো সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি কার্গো শনিবার দুপুরে দেশে পৌঁছেছে। রাতেই সেটি থেকে টার্মিনালে এলএনজি খালাসের কথা রয়েছে। অপর কার্গোটি আগামী ২৬ বা ২৭ আগস্ট দেশে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে নতুন কার্গো এলেও বর্তমানে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। ফলে এলএনজি সরবরাহ বাড়লেও দেশে চলমান গ্যাস-সংকট তাৎক্ষণিকভাবে পুরোপুরি দূর হওয়ার সম্ভাবনা কম।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ