কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ আগামী শনিবারের (২২ আগস্ট) মধ্যে দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার কলকাতার বাংলাদেশ মিশনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডেপুটি হাইকমিশনার মোহাম্মদ খালেদ।
তিনি জানান, নিহতদের মধ্যে পাঁচ বাংলাদেশির মরদেহ বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে দেশে পাঠানো হবে। তারা হলেন কুষ্টিয়ার মোহিনী মিল এলাকার বাসিন্দা ও একটি সংবাদমাধ্যমের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা শারমীন, তাদের তিন বছর বয়সী সন্তান শর্ণশীষ দত্ত, দেবাশীষের শ্বশুর মো. আকরাম আলী এবং ঢাকার সাভারের আহামেদ বাবু।
বাংলাদেশ উপ-দূতাবাস জানিয়েছে, মরদেহগুলো দ্রুত দেশে ফেরাতে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সম্পন্ন করা হচ্ছে। সব প্রক্রিয়া শুক্রবারের মধ্যে শেষ করা সম্ভব হলে সেদিনই মরদেহ পাঠানো হবে। অন্যথায় শনিবার পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
এ ছাড়া সাতক্ষীরার বাসিন্দা এস এম আলিমুজ্জামানের মরদেহ ভোমরা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের বাসিন্দা রেবতী সরকারের মরদেহ কলকাতাতেই সৎকারের সম্ভাবনা রয়েছে। ডেপুটি হাইকমিশনার জানান, রেবতী সরকারের ছেলে কলকাতায় তার মায়ের সৎকার করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তবে এ জন্য পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন। বিষয়টি ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার রাতে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটে অবস্থিত ‘শিখা ইন’ হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সাত বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে একজন শিশু ও দুই নারী ছিলেন। এ ঘটনায় দুই ভারতীয় নাগরিকও মারা যান। তারা হলেন ঝাড়খণ্ডের সন্দীপ পাশওয়ান ও শিলিগুড়ির যোগ নারায়ণ আগরওয়াল।
এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার দুই ভারতীয় নাগরিকের মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
রেবতী সরকারের ছেলে অনিক সরকার জানান, প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর পুলিশ তার মায়ের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবে। এরপর পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কলকাতাতেই তার সৎকার করা হবে।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর নিউমার্কেট এলাকার আরও ১৭টি আবাসিক হোটেলের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের দমকল বিভাগ। ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকার অভিযোগে এসব নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে একই এলাকায় নয়টি আবাসিক হোটেল ও চারটি রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধেও শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। নতুন ১৭টি হোটেলসহ এ পর্যন্ত মোট ২৬টি হোটেল ও চারটি রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করেছে দমকল বিভাগ।
মন্তব্যসমূহ