ঢাকা    সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ ২২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

বাংলাদেশ থেকে বছরে ৫০ হাজারের বেশি কর্মী নিতে চায় মন্টিনেগ্রো

বাংলাদেশ থেকে বছরে ৫০ হাজারের বেশি কর্মী নিতে চায় মন্টিনেগ্রো
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

মন্টিনেগ্রোয় প্রতি বছর ৫০ হাজারের বেশি দক্ষ ও পেশাজীবী কর্মীর প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট সদস্য গোরদান স্তোয়োভিচ। শ্রমবাজারের এই চাহিদা পূরণে পর্যটন, নির্মাণ, আতিথেয়তা ও চিকিৎসাসেবাসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশ থেকে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ব্যবস্থায় কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনার বিষয়েও ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (৫ অক্টোবর) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে জনশক্তি নিয়োগসহ বাংলাদেশ ও মন্টিনেগ্রোর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন গোরদান স্তোয়োভিচ।

বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তির বৈধ অভিবাসন বাড়াতে কাজ করছে। দেশে তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী, প্রকৌশলী, নির্মাণশ্রমিক ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মীসহ বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনশক্তি রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্টিনেগ্রোর পার্লামেন্ট সদস্য জানান, তার দেশে প্রতি বছর ৫০ হাজারের বেশি দক্ষ ও পেশাজীবী কর্মীর প্রয়োজন হয়। পর্যটন, নির্মাণ, আতিথেয়তা ও চিকিৎসাসেবা খাতে জি-টু-জি চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার সম্ভাবনার বিষয়েও ইতিবাচক মনোভাব জানান তিনি।

বাংলাদেশি কর্মীরা যাতে মন্টিনেগ্রোর অর্থনীতিতে আরও কার্যকরভাবে অবদান রাখতে পারেন, সে জন্য ওয়ার্ক পারমিট প্রক্রিয়া সহজ করা এবং শ্রমিকদের চলাচলসংক্রান্ত চুক্তি কার্যকরের ওপর গুরুত্ব দেয় উভয় পক্ষ।

দুই দেশের রাজনৈতিক ও সংসদীয় সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার বিষয়ও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। সংসদীয় কূটনীতি জোরদার, প্রতিনিধি দলের সফর বিনিময় এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে বাংলাদেশ-মন্টিনেগ্রো পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠনের বিষয়ে আলোচনা হয়।

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় করেন তারা। পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মন্টিনেগ্রোকে আমদানিনির্ভর দেশ উল্লেখ করে গোরদান স্তোয়োভিচ বলেন, তৈরি পোশাকের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, সিরামিক এবং পাট ও পাটজাত পণ্য আমদানির পরিমাণ বাড়াতে পারে তার দেশ।

অন্যদিকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিভিন্ন সম্ভাবনা তুলে ধরেন শামা ওবায়েদ ইসলাম। কৃষি ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সামুদ্রিক খাদ্য, পরিবেশবান্ধব পর্যটন, তৈরি পোশাক, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।

এর পরিপ্রেক্ষিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে মন্টিনেগ্রোর বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা জানান দেশটির পার্লামেন্ট সদস্য। পর্যটনে মন্টিনেগ্রোর গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক অবস্থানের কথা তুলে ধরে বাংলাদেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নে যৌথ সহযোগিতা ও বিনিয়োগের আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।

বৈঠকে শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, খেলাধুলা ও সংস্কৃতি, জনশক্তি ও কর্মসংস্থান, মানব চলাচল ও অভিবাসন, ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়েও আলোচনা হয়। এসব ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও অংশীদারত্বের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ ছাড়া বাল্টিক অঞ্চলসহ এর বাইরেও আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে মন্টিনেগ্রোর সম্ভাবনা কাজে লাগানোর বিষয়ে আলোচনা করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মন্টিনেগ্রোর মধ্যে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে তারা একমত হন।

নোট: প্রদত্ত প্রতিবেদনে মন্টিনেগ্রোর ক্ষেত্রে ‘বাল্টিক অঞ্চল’ উল্লেখ করা হয়েছে। তথ্যটি উৎসে যেভাবে রয়েছে সেভাবেই রাখা হয়েছে; অতিরিক্ত ব্যাখ্যা বা সংশোধন যোগ করা হয়নি।

ট্যাগ : শামা ওবায়েদ ইসলাম মন্টিনেগ্রো

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬


বাংলাদেশ থেকে বছরে ৫০ হাজারের বেশি কর্মী নিতে চায় মন্টিনেগ্রো

প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

মন্টিনেগ্রোয় প্রতি বছর ৫০ হাজারের বেশি দক্ষ ও পেশাজীবী কর্মীর প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট সদস্য গোরদান স্তোয়োভিচ। শ্রমবাজারের এই চাহিদা পূরণে পর্যটন, নির্মাণ, আতিথেয়তা ও চিকিৎসাসেবাসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশ থেকে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ব্যবস্থায় কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনার বিষয়েও ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (৫ অক্টোবর) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে জনশক্তি নিয়োগসহ বাংলাদেশ ও মন্টিনেগ্রোর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন গোরদান স্তোয়োভিচ।

বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তির বৈধ অভিবাসন বাড়াতে কাজ করছে। দেশে তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী, প্রকৌশলী, নির্মাণশ্রমিক ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মীসহ বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনশক্তি রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্টিনেগ্রোর পার্লামেন্ট সদস্য জানান, তার দেশে প্রতি বছর ৫০ হাজারের বেশি দক্ষ ও পেশাজীবী কর্মীর প্রয়োজন হয়। পর্যটন, নির্মাণ, আতিথেয়তা ও চিকিৎসাসেবা খাতে জি-টু-জি চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার সম্ভাবনার বিষয়েও ইতিবাচক মনোভাব জানান তিনি।

বাংলাদেশি কর্মীরা যাতে মন্টিনেগ্রোর অর্থনীতিতে আরও কার্যকরভাবে অবদান রাখতে পারেন, সে জন্য ওয়ার্ক পারমিট প্রক্রিয়া সহজ করা এবং শ্রমিকদের চলাচলসংক্রান্ত চুক্তি কার্যকরের ওপর গুরুত্ব দেয় উভয় পক্ষ।

দুই দেশের রাজনৈতিক ও সংসদীয় সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার বিষয়ও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। সংসদীয় কূটনীতি জোরদার, প্রতিনিধি দলের সফর বিনিময় এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে বাংলাদেশ-মন্টিনেগ্রো পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠনের বিষয়ে আলোচনা হয়।

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় করেন তারা। পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মন্টিনেগ্রোকে আমদানিনির্ভর দেশ উল্লেখ করে গোরদান স্তোয়োভিচ বলেন, তৈরি পোশাকের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, সিরামিক এবং পাট ও পাটজাত পণ্য আমদানির পরিমাণ বাড়াতে পারে তার দেশ।

অন্যদিকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিভিন্ন সম্ভাবনা তুলে ধরেন শামা ওবায়েদ ইসলাম। কৃষি ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সামুদ্রিক খাদ্য, পরিবেশবান্ধব পর্যটন, তৈরি পোশাক, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।

এর পরিপ্রেক্ষিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে মন্টিনেগ্রোর বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা জানান দেশটির পার্লামেন্ট সদস্য। পর্যটনে মন্টিনেগ্রোর গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক অবস্থানের কথা তুলে ধরে বাংলাদেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নে যৌথ সহযোগিতা ও বিনিয়োগের আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।

বৈঠকে শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, খেলাধুলা ও সংস্কৃতি, জনশক্তি ও কর্মসংস্থান, মানব চলাচল ও অভিবাসন, ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়েও আলোচনা হয়। এসব ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও অংশীদারত্বের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ ছাড়া বাল্টিক অঞ্চলসহ এর বাইরেও আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে মন্টিনেগ্রোর সম্ভাবনা কাজে লাগানোর বিষয়ে আলোচনা করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মন্টিনেগ্রোর মধ্যে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে তারা একমত হন।

নোট: প্রদত্ত প্রতিবেদনে মন্টিনেগ্রোর ক্ষেত্রে ‘বাল্টিক অঞ্চল’ উল্লেখ করা হয়েছে। তথ্যটি উৎসে যেভাবে রয়েছে সেভাবেই রাখা হয়েছে; অতিরিক্ত ব্যাখ্যা বা সংশোধন যোগ করা হয়নি।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ