বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে তৈরি হওয়া দূরত্ব কমিয়ে সম্পর্ককে নতুনভাবে সাজানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছে ভারতের সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস। এক সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষায় নতুন করে কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা বাড়ানো জরুরি।
সম্পাদকীয়তে উল্লেখ করা হয়, ভারতের উন্নয়ন ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দুই দেশ অভিন্ন নদী, রেল যোগাযোগ, জ্বালানি অবকাঠামো এবং প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত ভাগাভাগি করে। তাই সম্পর্কের টানাপোড়েন কাটিয়ে সহযোগিতার পথে এগোনো উভয় দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিবেশী দেশগুলোর রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সম্পর্ক পরিচালনা করা ভারতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্কে কূটনৈতিক শীতলতা তৈরি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে সফরের আমন্ত্রণ জানানো হলেও এখন পর্যন্ত সেই সফর বাস্তবায়ন হয়নি।
দুই দেশের সম্পর্কে সবচেয়ে বড় অমীমাংসিত বিষয়গুলোর একটি হয়ে উঠেছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবস্থান। ২০২৪ সালের আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশ তার প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে, যা ভারত প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছে।
শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল বক্তব্য ঘিরেও দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তার ভারত সফরের ক্ষেত্রে কিছু শর্তের বিষয় আলোচনায় এসেছে।
তবে ভারতের সংবাদমাধ্যমটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কঠোর শর্ত বা অবস্থানের পরিবর্তে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি আলোচনার মাধ্যমেই জটিল সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর আগে জানিয়েছেন, তার পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হবে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’। তিনি ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে মর্যাদা, সমতা, পারস্পরিক আস্থা ও সম্মানের ভিত্তিতে এগিয়ে নিতে চান।
অন্যদিকে ভারতও অতীতের বিষয়গুলো পেছনে ফেলে একটি ইতিবাচক ও ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক গড়তে আগ্রহী বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বাংলাদেশ ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। বিশেষ করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতকে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে নতুন সম্পর্কের কাঠামো তৈরি করতে হবে।
মন্তব্যসমূহ