লা লিগার নতুন মৌসুম শুরু হলেও এখনো মাঠে নামেনি স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা। নতুন স্কোয়াড নিয়ে পরিকল্পনার সুযোগ পাচ্ছে ক্লাবগুলো। এর মধ্যেই রিয়াল মাদ্রিদের নতুন কোচ হোসে মরিনিয়োর সামনে তৈরি হয়েছে এক মধুর সংকট।
দলের দুই আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার জুড বেলিংহ্যাম ও আর্দা গুলারের মধ্যে কাকে মূল একাদশে রাখা হবে, সেটি নিয়ে ভাবতে হচ্ছে মরিনিয়োকে।
প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি ম্যাচে নতুন ও পুরোনো খেলোয়াড়দের পরখ করছেন এই পর্তুগিজ কোচ। চার ম্যাচে মাত্র একটি গোল হজম করেছে রিয়াল। তবে আক্রমণভাগের ভারসাম্য তৈরি করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রিয়ালের আক্রমণভাগে কিলিয়ান এমবাপের পেছনে বেলিংহ্যামের জায়গা নির্ধারিত বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে দুই উইংয়ে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও ইয়ান দিয়োমান্দের। তবে বিশ্বকাপের পর ক্লাবে যোগ দেওয়ায় বেলিংহ্যাম কিছুটা দেরিতে প্রস্তুতি শুরু করেছেন।
অন্যদিকে, প্রাক-মৌসুমে নজর কেড়েছেন আর্দা গুলার। তুরস্কের এই তরুণ তারকা তিন বছর আগে রিয়ালে যোগ দিলেও এখনো নিয়মিত শুরুর একাদশে জায়গা করে নিতে পারেননি। তবে তার সৃজনশীলতা, বল নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণ তৈরির দক্ষতা কোচের নজর কেড়েছে।
বিশেষ করে এমবাপের সঙ্গে গুলারের বোঝাপড়া বেশ কার্যকর হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। ভিনিসিয়ুস ও বেলিংহ্যামের তুলনায় তুর্কি মিডফিল্ডারের খেলার ধরন এমবাপের সঙ্গে ভিন্ন ধরনের সমন্বয় তৈরি করতে পারে।
তবে ক্লাবের গুরুত্ব ও পারফরম্যান্স বিবেচনায় বেলিংহ্যাম এখনো এগিয়ে। ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপে নিজের সেরা অবস্থান দেখিয়েছেন তিনি। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণে উঠে গোল করার সক্ষমতা এবং শারীরিক শক্তির কারণে রিয়ালের জন্য তিনি গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়।
মরিনিয়ো অবশ্য বেলিংহ্যামকে আরও আক্রমণাত্মক ভূমিকায় দেখতে চান। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইংলিশ তারকাকে মাঝমাঠের কেন্দ্র থেকে প্রতিপক্ষের বক্সে আক্রমণের সুযোগ দেওয়া হবে।
অন্যদিকে গুলারকে প্রয়োজনে প্লে-মেকারের ভূমিকায় ব্যবহার করা যেতে পারে। তার বহুমুখী খেলার ক্ষমতা দলের কৌশলগত পরিবর্তনে সহায়ক হতে পারে।
মাঝমাঠের ভারসাম্য নিয়েও মরিনিয়োকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। রক্ষণাত্মক দায়িত্ব পালনে ভালভার্দে, চুয়ামেনি কিংবা কামাভিঙ্গার মতো খেলোয়াড়দের সঙ্গে সৃজনশীল একজন মিডফিল্ডারকে সমন্বয় করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে দীর্ঘ মৌসুমে চোট, নিষেধাজ্ঞা ও ফর্মের ওঠানামার কারণে সবাইকে ব্যবহার করার সুযোগ পাবেন কোচ। তাই বেলিংহ্যাম ও গুলারের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে সমস্যা নয়, বরং দলের জন্য ইতিবাচক বিষয় হিসেবেই দেখছেন মরিনিয়ো।
নতুন মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের সবচেয়ে বড় কৌশলগত প্রশ্নগুলোর একটি হবে, এই দুই প্রতিভাবান খেলোয়াড়কে কীভাবে একসঙ্গে কাজে লাগানো যায়।
মন্তব্যসমূহ