ঢাকা    শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৯ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

কারাগারে যুক্ত হচ্ছে এআই প্রযুক্তি, বদলাচ্ছে ব্যবস্থাপনার ধরন

কারাগারে যুক্ত হচ্ছে এআই প্রযুক্তি, বদলাচ্ছে ব্যবস্থাপনার ধরন
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

কারা ব্যবস্থাকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও মানবিক করতে ‘বাংলাদেশ জেল’ এর নাম পরিবর্তন করে ‘কাস্টোডিয়াল অ্যান্ড কারেকশন সার্ভিস বাংলাদেশ’ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে দেশের কারাগারগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি যুক্ত করা হচ্ছে। এআইনির্ভর সিসিটিভি ক্যামেরা, বডি ক্যামেরা, বডি স্ক্যানার, লাগেজ স্ক্যানার, মোবাইল ডিটেক্টর ও মোবাইল জ্যামিং সিস্টেমসহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে কারা অধিদপ্তর।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর বকশীবাজারে কারা অধিদপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে দায়িত্ব নেওয়ার পর কারা ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে বিভিন্ন প্রযুক্তি যুক্ত করা হচ্ছে।

কারা মহাপরিদর্শক জানান, বর্তমানে কারাগারে বডি স্ক্যানার, লাগেজ স্ক্যানার, মোবাইল ডিটেক্টর, গ্রাউন্ড সুইপিং মেশিন এবং মোবাইল জ্যামার ব্যবহার করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা কারারক্ষীদের বডি ক্যামেরার আওতায় আনার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের কারাগারগুলোকে কারা অধিদপ্তরের নিজস্ব ফাইবার নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালনের বিষয় পর্যবেক্ষণে ডিজিটাল অ্যাটেনডেন্স সিস্টেম ও টিম ট্র্যাকার চালু করা হয়েছে।

বন্দি ব্যবস্থাপনাতেও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, বন্দিদের তথ্য সংরক্ষণের জন্য একটি সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি বন্দিদের ফোন কল ও সাক্ষাৎ ব্যবস্থাকে ডিজিটাল পদ্ধতির আওতায় আনা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ভার্চুয়াল কোর্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে কারাগার থেকেই বন্দিদের বিচার কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বন্দিদের সংশোধন ও পুনর্বাসনের জন্য খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, ধর্মীয় শিক্ষা ও কাউন্সেলিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের বিষয়ে আইজি প্রিজনস জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে ও পরে পাঁচটি কারাগারে হামলা, ভাঙচুর ও বিদ্রোহের ঘটনায় মোট ২ হাজার ২৪৭ বন্দি পালিয়ে যায়। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৮৭ জনকে গ্রেপ্তার বা আত্মসমর্পণের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এখনো ৬৯০ জন পলাতক রয়েছে।

তিনি বলেন, গত এক বছরে কারাগার থেকে ৩ হাজারের বেশি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। নিষিদ্ধ মাদক ও অনিয়ম ঠেকাতে কারা বিভাগ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে।

কারা মহাপরিদর্শক আরও জানান, নিরাপত্তা জোরদার করতে নতুন করে ১ হাজার ৮৯৯টি পদ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বন্দিদের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারা হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আধুনিক কারা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইন ও বিধিমালা সংশোধনের কাজ চলছে। এ লক্ষ্যে ‘কাস্টোডিয়াল অ্যান্ড কারেকশন সার্ভিস অ্যাক্ট-২০২৫’-এর খসড়া প্রস্তুত করে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।

ট্যাগ : এআই প্রযুক্তি কারা অধিদপ্তর

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬


কারাগারে যুক্ত হচ্ছে এআই প্রযুক্তি, বদলাচ্ছে ব্যবস্থাপনার ধরন

প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

কারা ব্যবস্থাকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও মানবিক করতে ‘বাংলাদেশ জেল’ এর নাম পরিবর্তন করে ‘কাস্টোডিয়াল অ্যান্ড কারেকশন সার্ভিস বাংলাদেশ’ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে দেশের কারাগারগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি যুক্ত করা হচ্ছে। এআইনির্ভর সিসিটিভি ক্যামেরা, বডি ক্যামেরা, বডি স্ক্যানার, লাগেজ স্ক্যানার, মোবাইল ডিটেক্টর ও মোবাইল জ্যামিং সিস্টেমসহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে কারা অধিদপ্তর।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর বকশীবাজারে কারা অধিদপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে দায়িত্ব নেওয়ার পর কারা ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে বিভিন্ন প্রযুক্তি যুক্ত করা হচ্ছে।

কারা মহাপরিদর্শক জানান, বর্তমানে কারাগারে বডি স্ক্যানার, লাগেজ স্ক্যানার, মোবাইল ডিটেক্টর, গ্রাউন্ড সুইপিং মেশিন এবং মোবাইল জ্যামার ব্যবহার করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা কারারক্ষীদের বডি ক্যামেরার আওতায় আনার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের কারাগারগুলোকে কারা অধিদপ্তরের নিজস্ব ফাইবার নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালনের বিষয় পর্যবেক্ষণে ডিজিটাল অ্যাটেনডেন্স সিস্টেম ও টিম ট্র্যাকার চালু করা হয়েছে।

বন্দি ব্যবস্থাপনাতেও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, বন্দিদের তথ্য সংরক্ষণের জন্য একটি সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি বন্দিদের ফোন কল ও সাক্ষাৎ ব্যবস্থাকে ডিজিটাল পদ্ধতির আওতায় আনা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ভার্চুয়াল কোর্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে কারাগার থেকেই বন্দিদের বিচার কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বন্দিদের সংশোধন ও পুনর্বাসনের জন্য খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, ধর্মীয় শিক্ষা ও কাউন্সেলিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের বিষয়ে আইজি প্রিজনস জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে ও পরে পাঁচটি কারাগারে হামলা, ভাঙচুর ও বিদ্রোহের ঘটনায় মোট ২ হাজার ২৪৭ বন্দি পালিয়ে যায়। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৮৭ জনকে গ্রেপ্তার বা আত্মসমর্পণের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এখনো ৬৯০ জন পলাতক রয়েছে।

তিনি বলেন, গত এক বছরে কারাগার থেকে ৩ হাজারের বেশি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। নিষিদ্ধ মাদক ও অনিয়ম ঠেকাতে কারা বিভাগ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে।

কারা মহাপরিদর্শক আরও জানান, নিরাপত্তা জোরদার করতে নতুন করে ১ হাজার ৮৯৯টি পদ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বন্দিদের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারা হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আধুনিক কারা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইন ও বিধিমালা সংশোধনের কাজ চলছে। এ লক্ষ্যে ‘কাস্টোডিয়াল অ্যান্ড কারেকশন সার্ভিস অ্যাক্ট-২০২৫’-এর খসড়া প্রস্তুত করে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ