স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বর্তমান সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সর্বজনীন অধিকারে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও স্বার্থ সুরক্ষাকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অফিস কক্ষে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতীতে কক্সবাজারের রামু, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর ও কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। বর্তমান সরকারের সময়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের হার সবচেয়ে কম বলে দাবি করেন তিনি। দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মার নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নেয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং অর্পিত সম্পত্তি আইনসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনা হয়।
পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ঘিরে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানোর জন্য একজন ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা নির্ধারণের দাবি জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবিটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করে দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।
আলোচনায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে হরিদাস চন্দ্রের রামমন্দির নির্মাণ এবং অ্যাডভোকেট চৈতালী চক্রবর্তীর দেশের সার্বভৌমত্ববিরোধী বক্তব্যের বিষয়টিও উঠে আসে।
এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করে। তবে সম্প্রীতি বজায় রাখতে সব সম্প্রদায়ের মানুষকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে এমন বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে সব পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান তিনি।