ইসরায়েলের দীর্ঘকালীন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে পেছনে ফেলে দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সরকার গঠনের দৌড়ে সুস্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে গেছেন বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতা গাদি আইজেনকোট।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, আইনপ্রণেতাদের স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন সত্ত্বেও কে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার গঠনের ম্যান্ডেট পাচ্ছেন, সে বিষয়ে প্রেসিডেন্ট হারজগ আগামী রোববার (৮ নভেম্বর) তাঁর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবেন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে জেরুজালেমের প্রেসিডেন্ট বাসভবনে নবনির্বাচিত ২৬তম নেসেটের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে দুই দিনব্যাপী নিবিড় আলোচনা শেষে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ।
এদিকে সাবেক সেনাপ্রধান ও 'ইয়াশার' দলের প্রধান গাদি আইজেনকোট দ্রুত সরকার গঠনের ম্যান্ডেট দেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেছেন, ২০১৫ সালের পর ইসরায়েলের কোনো প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থীর পক্ষে এটিই সর্বোচ্চসংখ্যক আইনপ্রণেতার আনুষ্ঠানিক সুপারিশ।
তবে গাণিতিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও আইজেনকোটের সামনে একটি স্থায়ী জোট সরকার গঠনের পথ বেশ জটিল ও চ্যালেঞ্জিং। নেতানিয়াহুবিরোধী এই শিবিরে চারটি ইহুদিপ্রধান দলের ৪৮ জন সদস্যের পাশাপাশি রয়েছে দুটি আরবপ্রধান দলের (রাম ও জয়েন্ট লিস্ট) ১৯ জন সদস্য। ৬টি দলই একযোগে আইজেনকোটকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সুপারিশ করেছে।
অন্যদিকে নেতানিয়াহুর বিদায়ী ডানপন্থী জোট ৫৩টি আসন পেলেও ৭ আসনের অতি-গোঁড়া দল ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম (ইউটিজে) এবার নেতানিয়াহুকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সুপারিশ করেনি। এর ফলে দলটির সঙ্গে আইজেনকোট শিবিরের বিকল্প সমঝোতার পথ উন্মোচিত হয়েছে।
এদিকে স্পষ্ট বিপর্যয়ের মুখে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি বিরোধী দলগুলোকে নিয়ে একটি ‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য সরকার’ গঠনের আহ্বান জানিয়েছে। তবে আইজেনকোট ও তাঁর প্রধান মিত্ররা নেতানিয়াহুর সঙ্গে যে কোনো ধরনের অংশীদারত্ব গঠনের সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন।
সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল














মন্তব্যসমূহ