ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক সংঘাত আরও বিস্তৃত করা হবে কি না, সে বিষয়ে খুব শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংঘাত বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ইরানের ‘বাকি অংশও ধ্বংস করে দিতে হতে পারে’ বলে তীব্র সামরিক হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ২০২৬) রাতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ কড়া বার্তা দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওস (Axios)।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার পর ইরান যুদ্ধ নিয়ে ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে যখন নতুন করে প্রচণ্ড চাপ ও জবাবদিহি তৈরি হয়েছে, ঠিক তখনই ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক বক্তব্য সামনে এলো। আগামী জানুয়ারিতে নতুন কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক ক্ষেত্রে কতটা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন উঠছে।
ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বিজয়ের ফলে হোয়াইট হাউসের সামরিক সিদ্ধান্তের ওপর আইনসভার কড়া নজরদারি তৈরি হবে। তবে সামরিক বিশ্লেষকদের একাংশের আশঙ্কা, জানুয়ারি মাসে ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত নতুন কংগ্রেস শপথ নেওয়ার আগের এই অন্তর্বর্তী প্রায় দুই মাসের মধ্যে ট্রাম্প ইরানে বড় ধরনের আক্রমণ চালিয়ে লক্ষ্য অর্জন করে ফেলতে পারেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক বিশ্লেষক মন্তব্য করেছেন, রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতা কার্যকর হওয়ার আগেই ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এমন আগ্রাসী পদক্ষেপের ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
তবে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলোতে এক ধরনের প্রকাশ্য বৈপরীত্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, আপাতত বড় ধরনের নতুন কোনো হামলার তাৎক্ষণিক পরিকল্পনা নেই, তবে প্রয়োজন দেখা দিলে যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো মুহূর্তে পূর্ণ শক্তি নিয়ে আঘাত হানতে শতভাগ প্রস্তুত রয়েছে।
অন্যদিকে পলিটিকোকে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার তাঁর সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ সঠিক ছিল। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে তিনি বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টির পরাজয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধের প্রভাব ছিল। তবে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের আগের অবস্থান কিছুটা বদলে ট্রাম্প দাবি করেন, নির্বাচনে দলের খারাপ ফলের পেছনে যুদ্ধ নয়, বরং অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেল ও পেট্রলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিই মূল ভূমিকা রেখেছে।
সূত্র: ফক্স নিউজ














মন্তব্যসমূহ