যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইরান সামরিক ও রাজনৈতিক দুই দিক থেকেই জয় পেয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার ও শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
৬০ দিনের যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হওয়ার দিনে গালিবাফ এ মন্তব্য করেন। তার দাবি, যুদ্ধের ফল ইরানের জন্য সামরিক ও রাজনৈতিক উভয় দিক থেকেই সাফল্য বয়ে এনেছে।
অন্যদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে না পারায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন ব্যর্থতার দায় অন্যদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন বলে মন্তব্য করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার পুসান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক রবার্ট কেলি।
আল জাজিরাকে দেওয়া বক্তব্যে কেলি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে পরিকল্পিত যৌথ সামরিক মহড়া কমিয়ে আনার ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সঙ্গে ইরান যুদ্ধে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির সম্পর্ক থাকতে পারে।
তার মতে, ট্রাম্প শুরুতে ইরানের বিরুদ্ধে দ্রুত সামরিক সাফল্য অর্জনের আশা করেছিলেন। কিন্তু সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়ে পাল্টাপাল্টি হামলার জটিল পরিস্থিতিতে রূপ নিয়েছে। ফলে ট্রাম্প এখন রাজনৈতিকভাবে চাপের মুখে রয়েছেন।
কেলির ধারণা, এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা ট্রাম্পের সমালোচনার লক্ষ্য হতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষেত্রেও ট্রাম্পের সমালোচনার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, সিউল ইরান যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেয়নি এবং এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে যথেষ্ট পরামর্শও করা হয়নি।
তার মতে, ইরান যুদ্ধের জটিলতা আড়াল করতে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া কমানোর মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে হরমুজ ও উপসাগরীয় অঞ্চলের বর্তমান সংকট থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসবেন, ট্রাম্প নিজেও তা নিয়ে চাপে রয়েছেন বলে মনে করেন তিনি।
মন্তব্যসমূহ