ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উচ্চ পর্যায়ে স্থির রয়েছে। গত সপ্তাহে দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি বাড়ার পর নতুন সপ্তাহেও বাজারে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির প্রভাব অব্যাহত রয়েছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১৭ আগস্ট) গ্রিনিচ মান সময় রাত ২টা ২৯ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আগের অবস্থানের তুলনায় ৭২ সেন্ট বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৯ দশমিক ২০ ডলারে লেনদেন হচ্ছিল। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৪৪ সেন্ট বেড়ে ৮২ দশমিক ৮৩ ডলারে দাঁড়ায়।
এর আগে গত সপ্তাহে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই উভয় ধরনের তেলের দামই ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা এবং সৌদি আরামকোর একটি তেল শোধনাগারে হামলার খবরের পর সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে।
রয়টার্স জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। কেপলার ডেটা অনুযায়ী, শনিবার মাত্র পাঁচটি পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে এবং রোববার কোনো জাহাজের চলাচল রেকর্ড হয়নি। আগের সপ্তাহান্তে এই সংখ্যা ছিল ৩১টি।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক ফিলিপ নোভা-এর মার্কেট ইনসাইটস প্রধান প্রিয়াঙ্কা সচদেবা বলেন, আগস্টের শুরুর দিকের দরপতন থেকে তেলের দাম প্রায় পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় বাজারে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির প্রভাবও আবার বাড়ছে।
তবে হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনা বা তেলবাহী জাহাজ ও জ্বালানি অবকাঠামোয় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত তেলের দাম আরও দ্রুত বাড়ার সম্ভাবনা সীমিত বলে মনে করছেন এই বিশ্লেষক।
এদিকে ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে তেহরানের শর্ত মেনে নিতে হবে। ফলে আলোচনায় অগ্রগতি না হলে সরবরাহ সংকট ও তেলের দামের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।
মন্তব্যসমূহ