ঢাকা    বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

নবম পে স্কেলের খসড়া প্রস্তুত, অপেক্ষা মন্ত্রিসভার অনুমোদনের

নবম পে স্কেলের খসড়া প্রস্তুত, অপেক্ষা মন্ত্রিসভার অনুমোদনের
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল আলোচিত নবম জাতীয় পে স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে যেকোনো সময় নতুন বেতন কাঠামোর ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার।

রোববার (১৬ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন সচিব কমিটি নতুন পে স্কেলের খসড়া নীতিগতভাবে চূড়ান্ত করেছে। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পাওয়া গেলে প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে তোলা হতে পারে।

মুখ্য সচিব বলেন, দীর্ঘ সময় নতুন বেতন কাঠামো না আসায় মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির চাপ মোকাবিলা করতে হচ্ছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে রাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হলেও চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার সঙ্গে বেতনের সমন্বয় প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

প্রস্তাবিত কাঠামোয় মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে সব গ্রেডে একই হারে বেতন বৃদ্ধির পরিবর্তে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন আনুপাতিকভাবে বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

খসড়া পরিকল্পনায় নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে কার্যকরের বিষয়টি রাখা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে মূল বেতন এবং পরবর্তী পর্যায়ে বিভিন্ন ভাতা ও আর্থিক সুবিধা সমন্বয়ের প্রস্তাব রয়েছে। ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে পুরো কাঠামো বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে কত ধাপে এবং কবে থেকে এটি কার্যকর হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা।

পে স্কেল চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে বিচার বিভাগসংক্রান্ত কিছু বিষয় সমাধানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি বিশেষ কমিটিও কাজ করছে।

২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় নতুন বেতন কাঠামো না আসায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন পে স্কেলের দাবি জোরালো হয়।

নবম পে কমিশনের প্রতিবেদনে সর্বনিম্ন মূল বেতন বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছিল। তবে এগুলো এখনো প্রস্তাবিত অঙ্ক। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পরই নতুন পে স্কেলের চূড়ান্ত বেতন কাঠামো ও কার্যকরের সময়সূচি নিশ্চিত হবে।

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন মুখ্য সচিব। অর্থনীতিকে সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশ থেকে বিকল্প উৎস তৈরির চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

ট্যাগ : পে স্কেল

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নবম পে স্কেলের খসড়া প্রস্তুত, অপেক্ষা মন্ত্রিসভার অনুমোদনের

প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল আলোচিত নবম জাতীয় পে স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে যেকোনো সময় নতুন বেতন কাঠামোর ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার।

রোববার (১৬ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন সচিব কমিটি নতুন পে স্কেলের খসড়া নীতিগতভাবে চূড়ান্ত করেছে। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পাওয়া গেলে প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে তোলা হতে পারে।

মুখ্য সচিব বলেন, দীর্ঘ সময় নতুন বেতন কাঠামো না আসায় মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির চাপ মোকাবিলা করতে হচ্ছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে রাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হলেও চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার সঙ্গে বেতনের সমন্বয় প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

প্রস্তাবিত কাঠামোয় মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে সব গ্রেডে একই হারে বেতন বৃদ্ধির পরিবর্তে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন আনুপাতিকভাবে বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

খসড়া পরিকল্পনায় নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে কার্যকরের বিষয়টি রাখা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে মূল বেতন এবং পরবর্তী পর্যায়ে বিভিন্ন ভাতা ও আর্থিক সুবিধা সমন্বয়ের প্রস্তাব রয়েছে। ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে পুরো কাঠামো বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে কত ধাপে এবং কবে থেকে এটি কার্যকর হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা।

পে স্কেল চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে বিচার বিভাগসংক্রান্ত কিছু বিষয় সমাধানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি বিশেষ কমিটিও কাজ করছে।

২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় নতুন বেতন কাঠামো না আসায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন পে স্কেলের দাবি জোরালো হয়।

নবম পে কমিশনের প্রতিবেদনে সর্বনিম্ন মূল বেতন বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছিল। তবে এগুলো এখনো প্রস্তাবিত অঙ্ক। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পরই নতুন পে স্কেলের চূড়ান্ত বেতন কাঠামো ও কার্যকরের সময়সূচি নিশ্চিত হবে।

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন মুখ্য সচিব। অর্থনীতিকে সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশ থেকে বিকল্প উৎস তৈরির চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ