দেশে সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় গভীরভাবে প্রকট হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে মানুষের চিন্তাধারা ও নৈতিক অবস্থানের অবনতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেক ক্ষেত্রেই শিক্ষিত-অশিক্ষিত উভয় শ্রেণির মধ্যেই দুর্নীতি ও মূল্যবোধের সংকট স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।
সোমবার (২২ জুন) বিশ্ব প্রবীণ নির্যাতন সচেতনতা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে মোহাম্মদপুর ওয়াইডব্লিউসিএ স্কুল অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে রিসার্চ ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক)।
আইনমন্ত্রী বলেন, “দেশে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে একজন অশিক্ষিত ব্যক্তি পর্যন্ত বলে বসেন—ইশ! যদি লেখাপড়া শিখতাম, তাহলে বড় চোর হতে পারতাম। কারণ আমাদের দেশে দুর্নীতি ও লুটপাটের মাধ্যমে যে অর্থ বিদেশে পাচার হয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপন গড়ে উঠছে, তার একটি বড় অংশই উচ্চশিক্ষিত শ্রেণির কিছু মানুষের দ্বারা সংঘটিত।”
তিনি আরও বলেন, গত ১৬ বছরে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার দেশ থেকে পাচার হয়ে বিদেশে বিভিন্ন ব্যাংকে জমা হয়েছে—যার বড় অংশই বিশ্ববিদ্যালয় পাস করা ব্যক্তিদের মাধ্যমে হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রবীণদের দুর্বলতা ও সামাজিক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রবীণরা শিশুদের চেয়েও বেশি অসহায় অবস্থায় থাকেন। শারীরিক সক্ষমতা কমে যাওয়ায় তারা দৈনন্দিন কাজেও অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। তাই তাদের জন্য রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি।
তিনি বলেন, “রাষ্ট্র নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ভূমিকা রাখতে পারে, কিন্তু আমাদের মতো অর্থনৈতিক বাস্তবতায় রাষ্ট্রের পক্ষে সবকিছু সরাসরি বহন করা কঠিন। তাই সামাজিক সচেতনতা ছাড়া প্রবীণদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।”
উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, মিরপুর এলাকার এক প্রবীণ নারী নিজ বাসায় মারা গিয়েছিলেন, অথচ তার সন্তানরা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন। এ ধরনের ঘটনা শুধু আইন দিয়ে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়; পারিবারিক ও নৈতিক দায়িত্ববোধই এখানে মূল বিষয়।
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে আইনমন্ত্রী জানান, এবারের বাজেটে প্রবীণদের জন্য বেশ কিছু সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে নাগরিকদের জন্য রেল ভাড়া ফ্রি করা হয়েছে এবং মেট্রোরেলে ২৫ শতাংশ ভাড়া ছাড় দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রবীণ ভাতা ৭০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে কিছু ক্ষেত্রে সমন্বয় করা হয়েছে, এবং ৯০ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য ভাতা ১০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় প্রায় চার কোটি পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নারী সদস্যদের অগ্রাধিকার দিয়ে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে মাসিক ২৫০০ টাকা সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। এছাড়া কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালুর পাশাপাশি প্রবীণদের জন্য পৃথক কার্ড চালুর প্রস্তাবও সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা প্রবীণদের অধিকার, সুরক্ষা এবং সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।