মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনে একদিকে সুইজারল্যান্ডে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও, অন্যদিকে লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। এমন পরিস্থিতিতে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহকে মোকাবিলার দায়িত্ব সিরিয়ার হাতে তুলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে আবারও আলোচনার জন্ম দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়ে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা বলেছেন, লেবানন সংকটের সমাধান যুদ্ধের মাধ্যমে নয়, বরং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমেই সম্ভব।
রোববার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প হিজবুল্লাহর কঠোর সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে বেসামরিক হতাহতের ঘটনা এবং হিজবুল্লাহকে দ্রুত পরাজিত করতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য ইসরায়েলেরও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘হিজবুল্লাহকে দমন করতে না পারায় আমি ইসরায়েলের ওপর হতাশ। তারা ভবন ধ্বংস করা ছাড়া কিছুই করতে পারে না।’ এরপর হিজবুল্লাহবিরোধী লড়াইয়ের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি বিষয়টি সিরিয়ার হাতে ছেড়ে দেওয়ার খুব কাছাকাছি অবস্থানে আছি।’
এর আগে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলন চলাকালেও ট্রাম্প একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর দ্বিতীয় দফার এই বক্তব্যের পর প্রতিক্রিয়া জানান সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। ২০২৪ সালের শেষ দিকে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নেওয়া শারা বর্তমানে দেশ পুনর্গঠন এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জারের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
আরবভিত্তিক গণমাধ্যম আল মাশহাদকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শারা হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর সম্ভাবনা নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, লেবাননের সংকট অত্যন্ত গুরুতর এবং এর রাজনৈতিক সমাধান বর্তমানে অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে। তবে যুদ্ধ নয়, বরং নতুন ও কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমেই এই সংকটের সমাধান সম্ভব।
শারা বলেন, ‘লেবানন সংকটের সমাধান যুদ্ধ বা শহরগুলোতে বোমাবর্ষণের মাধ্যমে আসবে না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু তাঁর বক্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ সমাধান খোঁজার ক্ষেত্রে সিরিয়ার সম্ভাব্য ভূমিকার কথা বলেছেন। কিন্তু অনেকে বিষয়টি এমনভাবে উপস্থাপন করছেন যেন সিরিয়া আগামীকালই লেবাননে প্রবেশ করবে।’
সমাধানের পথ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা লেবানন ও সিরিয়ার মধ্যে সামরিক নয়, অর্থনৈতিক যোগাযোগের পথ খুঁজছি। বর্তমানে সেখানে যা ঘটছে তা থামাতে সৃজনশীল সমাধান প্রয়োজন। পুরোনো ও গতানুগতিক পদ্ধতিতে কাজ হবে না। লেবাননে সহায়তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা, প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা এবং এমন একটি সমাধান খুঁজে বের করা জরুরি যাতে সবাই আস্থা রাখতে পারে।’
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্পের বক্তব্য এবং শারার প্রতিক্রিয়া নতুন করে আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে সিরিয়ার বর্তমান নেতৃত্ব স্পষ্ট করেছে, লেবানন সংকট নিরসনে তারা সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক উদ্যোগকেই অগ্রাধিকার দিতে চায়।
সূত্র: ফক্স নিউজ