ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে কয়েক দিন ধরে ধারাবাহিক বিমান হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৫ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।সর্বশেষ দফার হামলায় বন্দর আব্বাস, চাবাহারসহ দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়। স্থানীয় সূত্রগুলো এসব এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর জানিয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো প্রকাশ করা হয়নি।মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা অভিযান চালাচ্ছে ইরান ও তার মিত্ররা।[BANGVIEWS-POST:1905]কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ২০টির বেশি ড্রোন এবং চারটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। একই সময়ে ইরাকের ইরবিলে মার্কিন কনস্যুলেট এবং একটি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার খবরও পাওয়া গেছে।চলমান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এয়ার কানাডা, এয়ার ফ্রান্স ও এজিয়ান এয়ারলাইন্সসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা দুবাই, রিয়াদ, বৈরুত ও তেল আবিবগামী একাধিক ফ্লাইট বাতিল করেছে।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান এখন আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। তবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে তেহরানকে সংযত আচরণ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।অন্যদিকে দ্রুত কোনো কূটনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা নাকচ করেছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করলে কোনো সমঝোতা চুক্তি মেনে চলতে ইরানও বাধ্য থাকবে না।[BANGVIEWS-POST:1903]এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। তেহরান যাতে বিদেশি উৎস থেকে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করতে না পারে, সে লক্ষ্যেই ইরান, রাশিয়া ও নাইজেরিয়ার কয়েকজন ব্যক্তি এবং একাধিক প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে।সামরিক হামলা, পাল্টা আঘাত, ফ্লাইট বাতিল এবং নতুন নিষেধাজ্ঞার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিমান চলাচলেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।সূত্র: রয়টার্স