আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠেয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি ও দলটির নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। বিএনপি তাকে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত করতে চায় বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মণি।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) নির্বাচন কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
নুরুল ইসলাম মণি জানান, মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান। সমর্থক হিসেবে রয়েছেন স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
তিনি বলেন, বিএনপি ও দলটির নেতৃত্বাধীন জোট মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দিয়েছে। আগামী ২০ আগস্ট সংসদ সদস্যদের ভোটে তাকে নির্বাচিত করার লক্ষ্য নিয়েই দল এগোচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন এবং সংসদ সদস্যরা ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন।
এবারের নির্বাচনে মির্জা ফখরুলের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদের মনোনয়নপত্রও জমা পড়েছে। ফলে একাধিক প্রার্থী থাকায় রাষ্ট্রপতি পদে ভোটের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়েও কথা বলেন চিফ হুইপ। তিনি জানান, সরকারের লক্ষ্য নতুন করে সংবিধান লেখা নয়, বরং প্রয়োজনীয় সংশোধনের মাধ্যমে জুলাই সনদের বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করা।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সংবিধানের কোনো ধারা, শব্দ বা চিহ্ন পরিবর্তন করাও সংশোধনের অংশ। এ ক্ষেত্রে সব রাজনৈতিক পক্ষের মতামত নিয়ে দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর একটি সাংবিধানিক কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ভারতের সংবিধান সংশোধনের উদাহরণ টেনে নুরুল ইসলাম মণি বলেন, একটি সংবিধান সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধিত হতে পারে, কিন্তু তার জন্য পুরো সংবিধান নতুন করে লেখার প্রয়োজন হয় না। বাংলাদেশেও আলোচনা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনের পথে এগোনোর কথা জানান তিনি।
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে বিএনপির মহাসচিব পদে কে দায়িত্ব নেবেন, এমন প্রশ্নে কোনো নাম জানাননি চিফ হুইপ। তিনি বলেন, এ বিষয়ে দলের পরবর্তী সিদ্ধান্ত যথাসময়ে জানানো হবে।
মন্তব্যসমূহ