এই চালানটি ভারত থেকে মোট ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ কেনার বড় প্রকল্পের অংশ। ২০২৪ সালে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান রাইটসের মাধ্যমে কোচগুলো কেনার চুক্তি করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। চুক্তির মোট মূল্য প্রায় ৯১৫ কোটি ভারতীয় রুপি। ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো চালান সরবরাহের লক্ষ্য রয়েছে।
প্রথম রেকটি দর্শনা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় নেওয়া হবে। সেখানে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও কারিগরি যাচাই শেষে যাত্রীবাহী ট্রেনে যুক্ত করার প্রস্তুতি নেওয়া হবে।
নতুন কোচগুলোতে বেশ কিছু আধুনিক সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্টেইনলেস স্টিলের হাতল ও পাদানি, হেলানো যায় এমন আসন, আংশিক খোলা যায় এমন জানালা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচে ফ্যান, সিসিটিভি নজরদারি এবং যাত্রী সতর্কীকরণ ব্যবস্থা।
এছাড়া শিশু পরিচর্যার জন্য আলাদা কক্ষ এবং নামাজের জায়গাও রাখা হয়েছে। বাংলাদেশের বাস্তবতা বিবেচনায় কোচগুলোর ছাদও তুলনামূলক শক্তিশালী করা হয়েছে, যাতে অননুমোদিতভাবে ছাদে যাত্রী ওঠার ঝুঁকি কমানো যায়।
নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও নতুন কোচগুলোকে উন্নত মানে তৈরি করা হয়েছে। ইউরোপীয় মান EN 15227 অনুযায়ী সংঘর্ষের সময় যাত্রীদের সুরক্ষা বাড়ানোর জন্য কোচের কাঠামোয় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হয়েছে।
কোচগুলোর বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা ৪১৫ ভোল্টে পরিচালনার উপযোগী। ভারতীয় রেলের প্রচলিত এলএইচবি কোচে সাধারণত ৭৫০ ভোল্টের ব্যবস্থা থাকলেও বাংলাদেশের প্রয়োজন অনুযায়ী এটি পরিবর্তন করা হয়েছে।
এর আগেও বাংলাদেশ রেলওয়ে ভারত থেকে এলএইচবি কোচ সংগ্রহ করেছে। ২০১৫-১৬ সালে ১২০টি ব্রডগেজ এলএইচবি যাত্রীবাহী কোচ সরবরাহ করা হয়েছিল। তবে এবারের কোচগুলোতে বাংলাদেশের চাহিদা অনুযায়ী বেশ কিছু নতুন সুবিধা ও কারিগরি পরিবর্তন যুক্ত করা হয়েছে।
নতুন কোচগুলো কোন ট্রেনে যুক্ত হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এগুলো দিয়ে নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালু করা হবে, নাকি পুরোনো কোনো ট্রেনের কোচ বদলানো হবে, সে বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে জানিয়েছে, কোচগুলো হাতে পাওয়ার পর বিভিন্ন রুটে নতুন রেক চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে যাত্রী পরিবহনে যুক্ত করার আগে সব ধরনের কারিগরি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে।
মন্তব্যসমূহ