বিরল এক পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল। বুধবার (১২ আগস্ট) গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, উত্তর রাশিয়া, স্পেন এবং পর্তুগালের একটি ছোট অংশে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার বিস্তীর্ণ এলাকায় দেখা যাবে আংশিক সূর্যগ্রহণ।
বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৩৪ মিনিটের দিকে বিশ্বব্যাপী গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হবে। পূর্ণগ্রাসের সর্বোচ্চ স্থায়িত্ব হবে প্রায় ২ মিনিট ১৮ সেকেন্ড। তবে বাংলাদেশ থেকে এই সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে না।
পূর্ণ সূর্যগ্রহণ ঘটে যখন চাঁদ সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে এমনভাবে অবস্থান করে যে সূর্যের দৃশ্যমান চাকতি সম্পূর্ণ ঢেকে যায়। তখন কয়েক মিনিটের জন্য দিনের আলো অনেকটা গোধূলির মতো অন্ধকার হয়ে আসে এবং সূর্যের বাইরের বায়ুমণ্ডল বা করোনা দৃশ্যমান হয়।
নাসার তথ্য অনুযায়ী, পূর্ণগ্রাসের পথ প্রথমে উত্তর রাশিয়ার ওপর দিয়ে শুরু হয়ে গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও উত্তর আটলান্টিক অতিক্রম করবে। পরে এটি স্পেন এবং পর্তুগালের উত্তর-পূর্বের ছোট একটি অংশে পৌঁছাবে।
ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে ১৯৯৯ সালের পর এটিই প্রথম পূর্ণ সূর্যগ্রহণ। স্পেনের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা পূর্ণগ্রাসের পথে রয়েছে। দেশটির অন্য অঞ্চলসহ ইউরোপের বেশির ভাগ জায়গায় সূর্যের বড় একটি অংশ চাঁদের আড়ালে চলে যেতে দেখা যাবে।
স্পেনে স্থানীয় সময় সন্ধ্যার দিকে পূর্ণগ্রাস দেখা যাবে। বিভিন্ন স্থানে সূর্যাস্তের খুব কাছাকাছি সময়ে এই বিরল দৃশ্য দেখা দেওয়ায় বিজ্ঞানী ও জ্যোতির্বিজ্ঞানপ্রেমীদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালের ৮ এপ্রিল উত্তর আমেরিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল থেকে একটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা গিয়েছিল। দুই বছরের ব্যবধানে আবারও পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ পাচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, পূর্ণগ্রাসের অতি সংক্ষিপ্ত সময় ছাড়া খালি চোখে সূর্যের দিকে তাকানো নিরাপদ নয়। আংশিক পর্যায় দেখার সময় আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিশেষ সোলার ভিউয়ার বা গ্রহণ দেখার চশমা ব্যবহার করা প্রয়োজন।
মন্তব্যসমূহ