যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নাজুক যুদ্ধবিরতির প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে কী হতে পারে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম রোববার গ্রিনিচ মান সময় রাত ১০টা ৬ মিনিটে প্রতি ব্যারেল ৮১ দশমিক ৬৬ ডলারে পৌঁছেছে। এ সময় দাম বেড়েছে ১ দশমিক ০৯ ডলার বা ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ। দিনের শুরুতে ব্রেন্টের দাম সর্বোচ্চ ৮২ দশমিক ৩০ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থান তেলের বাজারে এই ঊর্ধ্বগতির অন্যতম কারণ।
তবে গত সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমেছিল। কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে সক্ষম হওয়ায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহ নিয়ে বাজারের উদ্বেগ কিছুটা প্রশমিত হয়েছিল।
এদিকে, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডে শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনা। যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি বাস্তবায়নের চূড়ান্ত রোডম্যাপ তৈরির লক্ষ্যে দুই দেশের প্রতিনিধিদল মুখোমুখি বৈঠকে বসেছে।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনার সূচনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসনে এ আলোচনাকে গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।
আলোচনা সফল করতে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন। বৈঠকের ফলাফল শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের গতিপ্রকৃতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স