হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং ইরানের সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা ও নৌযান চলাচলে ফি আরোপের পরিকল্পনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় দুপুরের দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৫ সেন্ট বা ০.৯ শতাংশ বেড়ে ৮৩.২৪ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৪২ সেন্ট বা ০.৫ শতাংশ বেড়ে ৭৭.৭১ ডলারে দাঁড়ায়।
এর আগে বৃহস্পতিবারও তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ ডলারের বেশি বেড়েছিল। হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী মার্কিন ও ইসরায়েলি জাহাজ নিষিদ্ধ করার বিষয়ে ইরান একটি বিল পর্যালোচনা করছে—এমন খবর প্রকাশের পর বাজারে সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দেয়।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। ফলে প্রণালিটি ঘিরে যেকোনো ধরনের বাধা তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা কমার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছিল। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে আবারও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সপ্তাহ শেষে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই—দুই বেঞ্চমার্কই প্রায় ৮ শতাংশ দরপতনের দিকে রয়েছে।
রিস্ট্যাড এনার্জির বিশ্লেষক লিন ইয়ের মতে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরানের প্রস্তাবিত পরিকল্পনাই বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। তার ধারণা, পুরোপুরি স্বাভাবিক নৌ চলাচলের পরিবর্তে শর্তসাপেক্ষ ও নিয়ন্ত্রিত করিডোর চালু হওয়ার সম্ভাবনা বাজারে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা গেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে পরিবহন করা পণ্যের মূল্যের ৫ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত ফি নেওয়ার পরিকল্পনা করছে তেহরান। অন্যদিকে ওমান প্রায় ৩ শতাংশ ফি আরোপের বিষয়ে আলোচনা করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের ফি আরোপের বিরোধিতা করছে।
শিল্প খাতের কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে কঠোর বিমা শর্ত থাকায় প্রস্তাবিত চুক্তি বাস্তবায়ন করা জটিল হতে পারে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতিও জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলছে। ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী সৌদি সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে। একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান প্রতিবেদনের দিকে। শুক্রবার প্রকাশিতব্য এই তথ্য থেকে দেশটির অর্থনীতির পরিস্থিতি এবং ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সুদের হার নির্ধারণের বিষয়ে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। সুদের হার বাড়লে ভোক্তা ব্যয় ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যা জ্বালানি তেলের চাহিদাতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র : রয়টার্স