জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে না পারলে বিভাজনের সুযোগ নিয়ে মাফিয়া ও ফ্যাসিবাদী শক্তি আবারও সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জান্নাতুল ফেরদৌস সিনেট ভবনে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪’-এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া ও আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বিভক্তির রাজনীতি পরিহার করে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
দেশের সেচব্যবস্থা উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে সরকারের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। জানান, নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী সারাদেশে অন্তত ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় শুরু হওয়া এ কর্মসূচিকে নতুনভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি আরও জানান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুরোধে খাল পুনঃখনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম দেশের অন্যান্য এলাকার আগে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকেই শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারি চাকরিতে মেধার মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতাকেই প্রধান বিবেচনায় নেওয়া হবে। দলীয় পরিচয়ের পরিবর্তে মেধা ও সক্ষমতার ভিত্তিতেই নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালনার কথা উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের তরুণ নেতৃত্বকে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে গঠনমূলক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি আধুনিক অডিটোরিয়াম নির্মাণ এবং গবেষণা কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাসও দেন মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম এবং উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম। সভার আহ্বায়ক ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. সোহেল রানা। এছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্য, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।