বাংলাদেশ ও কানাডার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বৈচিত্র্য আনতে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি হালকা প্রকৌশল ও যন্ত্রপাতিসহ নতুন খাত যুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে দুই দেশ। ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদারে উভয় দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সফর বিনিময়ের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিংয়ের সাক্ষাতে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। বিশেষ করে তৈরি পোশাকের বাইরে হালকা প্রকৌশল ও যন্ত্রপাতিসহ সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের আওতায় আনার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সফর বিনিময়ের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন তারা।
বৈঠকে বহুপক্ষীয় সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশ ও কানাডার একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ নিয়ে কথা হয়। আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে যোগাযোগ ও বৈঠকের প্রত্যাশাও ব্যক্ত করা হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কানাডায় বসবাসরত এক লাখের বেশি বাংলাদেশির অবদানের কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় কানাডার ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য দেশটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
কানাডার হাইকমিশনার রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের প্রচেষ্টায় তার দেশের সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের সভাপতিত্বের প্রেক্ষাপটে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও জলবায়ু অর্থায়নের ক্ষেত্রে কানাডার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
কৃষি খাতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার একটি কাঠামো তৈরির সম্ভাবনার কথাও বৈঠকে তুলে ধরেন কানাডার হাইকমিশনার। পাশাপাশি জ্বালানি খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে দুই পক্ষ মতবিনিময় করে।
বাণিজ্য, কৃষি, জ্বালানি ও জলবায়ু ইস্যুতে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরির মাধ্যমে বাংলাদেশ-কানাডা সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।