সার্কভুক্ত দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ চালুর ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। তিনি জানান, বিশেষ করে নেপালের শিক্ষার্থীদের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ বিনা খরচে উচ্চশিক্ষার সুযোগ চালু করা হবে। এ উদ্যোগ দক্ষিণ এশিয়ায় শিক্ষা, গবেষণা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়কে আরও এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বৃহস্পতিবার নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ধুমবারাহিতে অবস্থিত ন্যাশনাল কলেজে আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের শিক্ষাবিদ, গবেষক, মনোবিজ্ঞানী ও নীতিনির্ধারকেরা অংশ নেন।
উপাচার্য বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী এবং আড়াই হাজারের বেশি কলেজ নিয়ে দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রায় ৫০টি বিষয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যার মধ্যে মনোবিজ্ঞান একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অনেক শিক্ষার্থী মানসিক চাপ ও ট্রমার মধ্য দিয়ে গেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, কার্যকর কাউন্সেলিং সেবা এবং দক্ষ মনোবিজ্ঞানী তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করেই টেকসই মানবসম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ড. আমানুল্লাহ জানান, দেশে বর্তমানে কাউন্সেলিং, অ্যাপ্লাইড ও সোশ্যাল সাইকোলজিস্টের বড় ধরনের সংকট রয়েছে। চাহিদার তুলনায় কর্মরত মনোবিজ্ঞানীর সংখ্যা খুবই কম। এ সংকট দূর করতে ধাপে ধাপে দেশের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কাউন্সেলিং সেবা সম্প্রসারণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন বিদেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ গবেষণা, প্রশিক্ষণ, একাডেমিক বিনিময় এবং মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন কার্যক্রমে অংশীদারত্ব গড়ে তুলছে। ইতোমধ্যে একাধিক আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে এবং শিগগিরই মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ সময় তিনি কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়সহ নেপালের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সার্কভুক্ত শিক্ষার্থীদের জন্য ঘোষিত স্কলারশিপ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে শিক্ষা ও গবেষণায় সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সম্মেলনে সার্কের মহাসচিব রাষ্ট্রদূত গোলাম সারওয়ার, নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান, কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. অচ্যুত ওয়াগল, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল করিমসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষাবিদ, গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।