ঢাকা    রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ৭ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা নিয়ে ট্রাম্পকে সতর্ক করলেন মেলোনি

রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা নিয়ে ট্রাম্পকে সতর্ক করলেন মেলোনি
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

একসময় ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে বিবেচিত হতো ইতালি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির প্রকাশ্য বাকযুদ্ধ দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন করে উত্তেজনার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

বছরের শুরুতে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউরোপ ও ন্যাটোর সহযোগিতা না পাওয়ায় বারবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প। এরপর থেকেই ইউরোপের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কের উষ্ণতায় ভাটা পড়ে। যদিও সম্প্রতি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে সেই দূরত্ব কিছুটা কমার ইঙ্গিত মিলছিল। কিন্তু ট্রাম্পের এক মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয়।

ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলন চলাকালে ইতালির লা সেভেন টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য বারবার অনুরোধ করেছিলেন।

ট্রাম্প বলেন, “তিনি আমার সঙ্গে একটি ছবি তোলার জন্য বারবার মিনতি করেছিলেন। তিনি খুব বেশি করে ছবি তুলতে চেয়েছিলেন। আমি ছবিটি তুলতামই না, কিন্তু তাঁর জন্য আমার খারাপ লেগেছিল।”

ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে তাৎক্ষণিকভাবে ‘সম্পূর্ণ মনগড়া’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন মেলোনি। তিনি বলেন, “সত্যি বলতে আমি হতবাক। আপনাকে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে—ইতালি এবং আমি কখনো মিনতি করি না।”

এ ঘটনায় ইতালির রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টোনিও তাজানি তাঁর নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেন।

তবে বিষয়টি থেমে যায়নি। শনিবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, জি-৭ সম্মেলনে মেলোনি তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য বারবার অনুরোধ করেছিলেন।

একই সঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা না করায় ইতালির প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা দ্রুত কমে যাচ্ছে। তাঁর ইঙ্গিত ছিল, জনপ্রিয়তা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যেই মেলোনি ট্রাম্পের সঙ্গে ছবি তুলতে আগ্রহী ছিলেন।

তবে ইতালির প্রধানমন্ত্রী আবারও কঠোর ভাষায় ট্রাম্পের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন। ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘অর্থহীন’ আখ্যা দিয়ে লেখেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, এই ক্রমাগত ও অহেতুক আক্রমণগুলো একেবারেই অর্থহীন।”

মেলোনি বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক কখনোই তাঁর জনপ্রিয়তার নির্ধারক ছিল না। বরং ইতালির জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় আপসহীন অবস্থানই জনগণের সমর্থন এনে দিয়েছে। আর সেই জাতীয় স্বার্থের কারণেই তিনি ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানে সাড়া দেননি।

ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে মেলোনি আরও লেখেন, “যাই হোক না কেন, আমার জনপ্রিয়তা আপনার চিন্তার বিষয় নয়। আমি পরামর্শ দেব, আপনি আপনার নিজের জনপ্রিয়তার দিকেই মনোযোগ দিন।”

এদিকে, ছবি তোলা বিতর্কে মেলোনির পাশে দাঁড়িয়েছে ইতালির গণমাধ্যমের একটি অংশও। শনিবার দেশটির একটি কট্টর ডানপন্থী সংবাদপত্র প্রথম পাতার শিরোনাম করে, ‘ট্রাম্প একজন আস্ত গাধা।’

বিশ্লেষকদের মতে, মেলোনিকে লক্ষ্য করে ট্রাম্পের ধারাবাহিক আক্রমণ ইতালি-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে। অথচ দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে একমাত্র মেলোনিই উপস্থিত ছিলেন। একসময় পরস্পরের ভূয়সী প্রশংসা করা এই দুই নেতার প্রকাশ্য বৈরিতা এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

সূত্র: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম

ট্যাগ : ডোনাল্ড ট্রাম্প জর্জিয়া মেলোনি ইতালি-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক

বাংলা ভিউজ

রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা নিয়ে ট্রাম্পকে সতর্ক করলেন মেলোনি

প্রকাশের তারিখ : ২১ জুন ২০২৬

featured Image

একসময় ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে বিবেচিত হতো ইতালি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির প্রকাশ্য বাকযুদ্ধ দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন করে উত্তেজনার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

বছরের শুরুতে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউরোপ ও ন্যাটোর সহযোগিতা না পাওয়ায় বারবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প। এরপর থেকেই ইউরোপের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কের উষ্ণতায় ভাটা পড়ে। যদিও সম্প্রতি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে সেই দূরত্ব কিছুটা কমার ইঙ্গিত মিলছিল। কিন্তু ট্রাম্পের এক মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয়।

ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলন চলাকালে ইতালির লা সেভেন টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য বারবার অনুরোধ করেছিলেন।

ট্রাম্প বলেন, “তিনি আমার সঙ্গে একটি ছবি তোলার জন্য বারবার মিনতি করেছিলেন। তিনি খুব বেশি করে ছবি তুলতে চেয়েছিলেন। আমি ছবিটি তুলতামই না, কিন্তু তাঁর জন্য আমার খারাপ লেগেছিল।”

ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে তাৎক্ষণিকভাবে ‘সম্পূর্ণ মনগড়া’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন মেলোনি। তিনি বলেন, “সত্যি বলতে আমি হতবাক। আপনাকে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে—ইতালি এবং আমি কখনো মিনতি করি না।”

এ ঘটনায় ইতালির রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টোনিও তাজানি তাঁর নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেন।

তবে বিষয়টি থেমে যায়নি। শনিবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, জি-৭ সম্মেলনে মেলোনি তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য বারবার অনুরোধ করেছিলেন।

একই সঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা না করায় ইতালির প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা দ্রুত কমে যাচ্ছে। তাঁর ইঙ্গিত ছিল, জনপ্রিয়তা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যেই মেলোনি ট্রাম্পের সঙ্গে ছবি তুলতে আগ্রহী ছিলেন।

তবে ইতালির প্রধানমন্ত্রী আবারও কঠোর ভাষায় ট্রাম্পের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন। ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘অর্থহীন’ আখ্যা দিয়ে লেখেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, এই ক্রমাগত ও অহেতুক আক্রমণগুলো একেবারেই অর্থহীন।”

মেলোনি বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক কখনোই তাঁর জনপ্রিয়তার নির্ধারক ছিল না। বরং ইতালির জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় আপসহীন অবস্থানই জনগণের সমর্থন এনে দিয়েছে। আর সেই জাতীয় স্বার্থের কারণেই তিনি ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানে সাড়া দেননি।

ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে মেলোনি আরও লেখেন, “যাই হোক না কেন, আমার জনপ্রিয়তা আপনার চিন্তার বিষয় নয়। আমি পরামর্শ দেব, আপনি আপনার নিজের জনপ্রিয়তার দিকেই মনোযোগ দিন।”

এদিকে, ছবি তোলা বিতর্কে মেলোনির পাশে দাঁড়িয়েছে ইতালির গণমাধ্যমের একটি অংশও। শনিবার দেশটির একটি কট্টর ডানপন্থী সংবাদপত্র প্রথম পাতার শিরোনাম করে, ‘ট্রাম্প একজন আস্ত গাধা।’

বিশ্লেষকদের মতে, মেলোনিকে লক্ষ্য করে ট্রাম্পের ধারাবাহিক আক্রমণ ইতালি-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে। অথচ দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে একমাত্র মেলোনিই উপস্থিত ছিলেন। একসময় পরস্পরের ভূয়সী প্রশংসা করা এই দুই নেতার প্রকাশ্য বৈরিতা এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

সূত্র: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ