ইউরোপে অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন মোকাবিলায় কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ও ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন মতাদর্শের এই দুই নেতা সোমবার (১০ আগস্ট) এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, নিয়ন্ত্রণহীন অভিবাসন ইউরোপীয় সমাজে নানা ধরনের চাপ তৈরি করছে। এর ফলে অপরাধের ঝুঁকি বৃদ্ধি, সরকারি সেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ এবং নাগরিকদের আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে।তারা বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ইউরোপ ও এর মূল্যবোধ রক্ষার বিষয়ে তাদের অবস্থান একই। অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তারা।[BANGVIEWS-POST:3548]ইতালির ডানপন্থী দল ব্রাদার্স অব ইতালির নেতা মেলোনি দীর্ঘদিন ধরেই কঠোর অভিবাসন নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। অন্যদিকে ডেনমার্কের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নেতা ফ্রেডেরিকসেনও অবৈধ অভিবাসীদের ইউরোপের বাইরে রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন।যৌথ বিবৃতিতে দুই প্রধানমন্ত্রী ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরে ফেরত পাঠানোর কেন্দ্র বা রিটার্ন সেন্টার স্থাপনের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন। তারা বলেন, অবৈধভাবে অবস্থানরত কোনো ব্যক্তি সহিংস অপরাধ, মাদক ব্যবসা বা যৌন সহিংসতার মতো অপরাধে জড়ালে বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।সম্প্রতি স্পেনের উত্তর আফ্রিকীয় ছিটমহল সেউতাকে ঘিরে অভিবাসন বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে। আগস্টের শুরুতে কয়েক দিনের মধ্যে মরক্কো থেকে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ সেউতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। পরে তাদের দ্রুত মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হয়।এই ঘটনার পর ইতালি ও স্পেন নিজেদের মধ্যে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে। অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।[BANGVIEWS-POST:3547]ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বড় রাজনৈতিক জোট ইউরোপিয়ান পিপলস পার্টির (ইপিপি) নেতা ম্যানফ্রেড ভেবারও ইইউর বাইরে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর কেন্দ্র স্থাপনের পক্ষে মত দিয়েছেন। তিনি আফ্রিকায় দ্রুত রিটার্ন হাব তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই পরিকল্পনার সমালোচনা করেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক বলেছেন, ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের মানবাধিকার সংক্রান্ত দায়িত্ব অন্য দেশের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে না।