তেজগাঁও কলেজ মসজিদ থেকে জঙ্গি সন্দেহে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১২ জন ‘ইত্তেহাদুল উম্মাহ’ নামে একটি সংগঠন গড়ে খেলাফত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা করছিলেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রোববার সচিবালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গোয়েন্দা সংস্থার কাছে আগে থেকেই সম্ভাব্য তৎপরতার বিষয়ে তথ্য ছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতে তেজগাঁও কলেজ মসজিদে অভিযান চালানো হয়। নামাজ শেষ হওয়ার পরও সেখানে কয়েকজন অবস্থান করে আলোচনা করছিলেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ২৩ জনকে আটক করে।
তিনি জানান, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি তাদের মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ জনের বিরুদ্ধে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার মতো পর্যাপ্ত তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পরে তাদের অভিভাবক ও মুরুব্বিদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বাকি ১২ জনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মোবাইল ফোনের ফরেনসিক প্রতিবেদন ও জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী তারা ‘ইত্তেহাদুল উম্মাহ’ নামে নতুন একটি সংগঠন গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সংগঠনটির লক্ষ্য ছিল খেলাফত প্রতিষ্ঠা এবং উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডের জন্য সংগঠিত হওয়া।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। আটক ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং আরও তথ্য জানতে তাদের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে তাদের পরিকল্পনা, যোগাযোগ এবং অন্য কেউ এর সঙ্গে যুক্ত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
এর আগে শুক্রবার রাজধানীর ফার্মগেট এলাকার তেজগাঁও কলেজ মসজিদ থেকে জঙ্গি তৎপরতার সন্দেহে ২৩ জনকে আটক করে পুলিশ। পরবর্তী যাচাই-বাছাই ও জিজ্ঞাসাবাদের পর ১১ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।