ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো ও সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে দুর্বল করতে দেশটিতে ১০ থেকে ১৪ দিন ধরে নিবিড় বিমান হামলার একটি পরিকল্পনা তৈরি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার সম্ভাব্য এ সামরিক বিকল্প প্রস্তুত করেছেন। তবে পরিকল্পনাটি এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি।
প্রস্তাবিত অভিযানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থল, উৎপাদনব্যবস্থা, মজুতকেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালানোর কথা রয়েছে। এর উদ্দেশ্য হবে তেহরানের পাল্টা আক্রমণের সক্ষমতা দ্রুত কমিয়ে দেওয়া।
ফ্লোরিডার ট্যাম্পায় সেন্টকমের সদর দপ্তর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক পরিস্থিতি তদারকি করছেন অ্যাডমিরাল কুপার। তার পরিকল্পনায় বড় পরিসরের হামলাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাকে কর্মকর্তারা ‘গো বিগ’ কৌশল হিসেবে উল্লেখ করছেন।
এই কৌশলের পক্ষে যুক্তি হলো, শুরুতেই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতায় বড় আঘাত হানা গেলে পরবর্তী সময়ে মার্কিন ও মিত্র ঘাঁটি রক্ষায় তুলনামূলক কম প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে পরিকল্পনাটি নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন সতর্ক করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত চলতে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমছে।
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুদ্ধের আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আনুমানিক ২ হাজার ৩৩০টি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ছিল। বর্তমানে এই মজুত প্রায় ৭৫৯ থেকে ৮২৭টির মধ্যে নেমে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
একই বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত প্রায় ৬৫ শতাংশ এবং থাড ইন্টারসেপ্টরের মজুত প্রায় ৩৮ শতাংশ কমেছে। ফলে নতুন করে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত শুরু হলে বিভিন্ন অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি চাপে পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত অস্ত্র ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহার করা হলে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলার সক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ইরানে বড় পরিসরের অভিযানের পাশাপাশি সীমিত হামলার বিকল্পও যুক্তরাষ্ট্রের বিবেচনায় রয়েছে। শেষ পর্যন্ত কোন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে, সে সিদ্ধান্ত নেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সূত্র : দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল