ইরাকের পূর্বাঞ্চলে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ব্যবহৃত একাধিক স্থাপনায় যৌথ বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হামলায় অস্ত্র ও রসদ সংরক্ষণের কয়েকটি স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) পরিচালিত এ অভিযান মধ্যপ্রাচ্যে পাঁচ দিনের সাময়িক বিরতির পর নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
সেন্টকমের দাবি, আগের ৭২ ঘণ্টায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নির্দেশনায় ৩০টির বেশি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় মার্কিন বাহিনী ও সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু ছিল। এর প্রতিক্রিয়াতেই ইরাকে যৌথ অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরাক থেকে ছোড়া কয়েকটি ড্রোন দেশটির পূর্বাঞ্চল ও রিয়াদের তেল স্থাপনায় আঘাত হানার চেষ্টা করেছিল। সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সেগুলো ভূপাতিত করেছে বলে দাবি রিয়াদের।
এর আগে জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান। মার্কিন সামরিক বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করার দাবি করেছে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং পরে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি আরবের যৌথ অভিযান দুটি পৃথক ঘটনা। ইরাকের হামলাটি জর্ডানের ঘটনার সরাসরি প্রতিশোধ ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে প্রয়োজন হলে যেকোনো পদক্ষেপ নেবে তেহরান। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করতেও তারা প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা।
এর মধ্যেই হোয়াইট হাউসে বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। হোয়াইট হাউস বৈঠকটিকে ‘ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ’ বলে বর্ণনা করলেও আলোচনায় নেওয়া কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেনি।
সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)