যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব দেওয়ার খবর প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি বলেছেন, তেহরান সরাসরি আলোচনার অনুরোধ করেছে—এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
সোমবার (২৭ জুলাই) তেহরানে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের প্রধান অগ্রাধিকার আত্মরক্ষা; যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা নয়।
বাঘায়ি জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বার্তা ইরানের কাছে পৌঁছাতে পারে। তবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো প্রত্যক্ষ বা আনুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে না।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, চুক্তি স্বাক্ষরের ২৩ দিনের মাথায় যুক্তরাষ্ট্র তা লঙ্ঘন করেছে। এ কারণে ইরানও নিজেদের অঙ্গীকার স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সমঝোতা স্মারকের পঞ্চম অনুচ্ছেদে ইরানকে অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্য ৩০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সময় শেষ হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে।
হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে বাঘায়ি বলেন, বর্তমানে কেবল ওমানের সঙ্গে ইরানের দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চলছে। ওই আলোচনার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এর আগে ইরান ও ওমানের কর্মকর্তারা প্রণালিতে নিরাপদ নৌচলাচলের নীতি ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক করেন।
সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির বিষয়ে তিনি বলেন, দশ দিনের বিরতির খবর গণমাধ্যমের জল্পনা ছাড়া আর কিছু নয়। সাম্প্রতিক শান্ত পরিস্থিতিকে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি হিসেবেও বিবেচনা করছে না তেহরান।
বাঘায়ি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিলে ইরান দ্রুত ও কঠোর জবাব দেবে। তবে তার বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
সূত্র: রয়টার্স