সংশোধিত আইন অনুযায়ী আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন ও জাতীয় প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ থাকছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, সাধারণ প্রতীকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ পরিবেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করা হবে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
মীর শাহে আলম বলেন, অতীতের শাসনামলে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও নির্বাচন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান সরকারের অন্যতম দায়িত্ব হলো পাঁচটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করা। এসব নির্বাচন জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে বাজেটে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনও নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে।
দলীয় প্রতীক না থাকলে মাঠপর্যায়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপি একক প্রার্থীকে সমর্থনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কোনো ইউনিয়নে একাধিক প্রার্থী থাকলে স্থানীয় পর্যায়ে সমঝোতার মাধ্যমে একজনকে সমর্থন দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। সমঝোতা না হলে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন মীর শাহে আলম। তার ভাষ্য, দলটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী তাদের সভা-সমাবেশ কিংবা দলীয় কার্যালয় পরিচালনার অনুমতি নেই। কেউ আইন অমান্য করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
বগুড়ার ইপিজেড, বিমানবন্দর ও বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদ এখনো ছয় মাস পূর্ণ হয়নি। বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় প্রয়োজন হয়।
তবে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এসব প্রকল্পে বগুড়াবাসী দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এর আগে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রাজস্ব খাতের আওতায় শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী। পরে তিনি উপজেলার মোকামতলা এলাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতিভা অন্বেষণ পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
এ সময় উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে শিবগঞ্জ গ্রামার স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং বেতগাড়ি মীর শাহে আলম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের জন্য দুটি স্কুল বাস বিতরণের কথাও রয়েছে।