এনআরবি ব্যাংকের ঋণ খেলাপির দুটি মামলায় রিজেন্ট হাসপাতাল ও রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার, ২৭ জুলাই ঢাকার অর্থঋণ আদালত-৪-এর বিচারক মো. মোশাররফ হোসেন এ আদেশ দেন।
সাহেদের আইনজীবী মোহাম্মদ দবির উদ্দিন জানান, দুটি মামলায় তার জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল। তবে অর্থঋণ আদালতের বিধান অনুযায়ী ব্যাংকের দাবিকৃত অর্থের ২৫ শতাংশ জমা দিতে না পারায় আদালত জামিন আবেদন গ্রহণ করেননি এবং তাকে মামলাগুলোতে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন।
আদালতের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে বলেও জানিয়েছেন সাহেদের আইনজীবী।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালে রিজেন্ট হাসপাতালের নামে এনআরবি ব্যাংক থেকে ১ কোটি ৫১ লাখ ৮১ হাজার টাকা ঋণ নেন সাহেদ। পাশাপাশি নিজের নামে ৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকার ক্রেডিট কার্ড সুবিধাও গ্রহণ করেন তিনি।
দীর্ঘ সময় পার হলেও ঋণ ও ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া অর্থ পরিশোধ না করায় ২০২১ সালে সাহেদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করে এনআরবি ব্যাংক। সুদ ও আসল মিলিয়ে বর্তমানে ব্যাংকটির দাবি প্রায় ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা।
এর আগে ২০ জুলাই রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকা থেকে সাহেদকে গ্রেপ্তার করে পল্লবী থানা পুলিশ। মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের ২ কোটি ১৬ লাখ টাকার চেক প্রত্যাখ্যানের মামলায় জারি হওয়া পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়।
করোনা মহামারির সময় ভুয়া পরীক্ষার প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগে আলোচনায় আসে রিজেন্ট হাসপাতাল। ২০২০ সালের ৬ জুলাই র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রতিষ্ঠানটির উত্তরা ও মিরপুর শাখায় অভিযান চালায়।
অভিযানে পরীক্ষা না করেই করোনার সনদ দেওয়া, রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা এবং অর্থ আদায়ের বিভিন্ন প্রমাণ পাওয়া যায় বলে জানায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরদিন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশে রিজেন্ট হাসপাতাল ও প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় সিলগালা করা হয়।
এ ঘটনায় সাহেদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করা হয়। একই বছরের ১৫ জুলাই সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টার সময় সাতক্ষীরা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
এরপর বিভিন্ন মামলায় দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকার পর ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান সাহেদ। তার বিরুদ্ধে মোট ৯৬টি মামলা ছিল। এর মধ্যে পাঁচটি মামলায় তিনি সাজাপ্রাপ্ত হন। সব মামলায় জামিন পাওয়ার পর সে সময় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।