যুক্তরাষ্ট্রে আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরান যুদ্ধ থামবে না বলে মনে করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমারও সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের মতে, নভেম্বরের নির্বাচনের পরপরই এই যুদ্ধ শেষ হবে। কারণ, তারা আর বেশি দিন টিকে থাকতে পারবে না।
রয়টার্স ও বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, গত বুধবার রিপাবলিকান পার্টির প্রথম মধ্যবর্তী নির্বাচনী সম্মেলনে যোগ দিতে টেক্সাস যাওয়ার আগে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে দেওয়া ভাষণেও তিনি একই কথা বলেন। ট্রাম্প বলেন, দীর্ঘ মেয়াদে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখতে স্বল্পমেয়াদি এই অর্থনৈতিক কষ্ট বা তেলের মূল্যবৃদ্ধি মার্কিন জনগণকে সহ্য করতে হবে।
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর সপ্তম মাসে গড়ানো এই সংঘাত দ্রুত পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ে। উপসাগরীয় দেশগুলোয় অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোয় ইরান পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।
যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (ব্রেন্ট ক্রুড) দাম গত ছয় মাসে একাধিকবার ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানি হামলার কারণে তেল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলো অবরুদ্ধ করেছে এবং দেশটির ট্যাঙ্কারগুলোয় হামলা জোরদার করেছে।
ট্রাম্পের দাবি, মধ্যবর্তী নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় ডেমোক্র্যাটদের মতো দুর্বল কোনো পক্ষকে আনতেই ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করছে। এর মাধ্যমে যেন তারা নির্বিঘ্নে পারমাণবিক বোমা বানাতে পারে। যদিও তেহরান এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি বলে দাবি করে আসছে।
এদিকে, যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার বিষয়ে নিজের দলের ভেতরেই ব্যাপক চাপে রয়েছেন ট্রাম্প। জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম রেকর্ড পরিমাণে বাড়ায় তাঁর জনপ্রিয়তা ব্যাপক কমেছে। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। তবুও সম্মেলনে দলীয় কর্মীদের চাঙ্গা করতে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ জেতার পরপরই তেলের দাম আবার হু-হু করে কমে যাবে।
ট্রাম্পের পুরো মেয়াদে চলতে পারে যুদ্ধ প্রকাশ্যে নভেম্বরের পর যুদ্ধ থামার কথা বললেও, ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ উপদেষ্টারা তাঁকে ভিন্ন সতর্কবার্তা দিয়েছেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও প্রেসিডেন্টকে ওভাল অফিসে জানিয়েছেন, ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করে সহজে জয় আসবে না। এই সংঘাত ট্রাম্পের পুরো মেয়াদ, অর্থাৎ ২০২৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত গড়াতে পারে।
ইরানি হামলায় জর্ডানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত সংঘাতের তীব্রতার মধ্যে সম্প্রতি ওমান উপসাগর ও পারস্য উপসাগরে পাঁচটি ইরানি তেল ট্যাঙ্কারে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড (আইআরসিজি) হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন ডেস্ট্রয়ার ও তেল ট্যাঙ্কারে হামলার দাবি করেছে। পাশাপাশি জর্ডানে মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ইরানের চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মার্কিন এ-টেন এবং কয়েকটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সন্দেহজনক পারমাণবিক স্থাপনায় নির্মাণকাজ, হামলার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের মধ্যেই ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক কমপ্লেক্সের কাছে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন নামক স্থানে গ্রানাইট পাহাড় কেটে ভূগর্ভস্থ স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলছে। সিএসআইএসের স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, সেখানে খনন ও বাঙ্কার শক্তিশালী করার কাজ চলছে। অতি সুরক্ষিত ও কঠিন এই পাহাড়ি লক্ষ্যবস্তুতে পেন্টাগনের সবচেয়ে শক্তিশালী অপারমাণবিক বোমা দিয়েও হামলা চালানো কঠিন। তবে এটি ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্র বিকল্প উপায় খুঁজছে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে নিরাপত্তা পরিষদের সহায়তা চাইল আইএইএ আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) অভিযোগ করেছে, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি ঠেকাতে নির্ধারিত আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা শর্তাবলি অমান্য করছে। ২০১৫ সালের চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে যাওয়ার পর ইরান পরিদর্শকদের বাধা দেওয়া ও নজরদারি ক্যামেরা বন্ধ করে দিয়েছে। এ অবস্থায় আইএইএ এখন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপ ও জবাবদিহিতা দাবি করেছে।