ইয়েমেনের হুদায়দাহ ও কামারান দ্বীপে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী। হুথিদের অভিযোগ, শুক্রবারের (২৪ জুলাই) হামলায় বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
হুথি পরিচালিত আল-মাসিরাহ টেলিভিশন জানিয়েছে, হুদায়দাহ শহরের টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো এবং লোহিত সাগরের কামারান দ্বীপে বিমান হামলা চালানো হয়। এতে হুদায়দাহর একজন কর্মী ও কামারান দ্বীপের এক নারী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে সংবাদমাধ্যমটি। হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
অন্যদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বলেছে, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি হয়ে ওঠা হুথিদের সামরিক স্থাপনাই হামলার লক্ষ্য ছিল। জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি দাবি করেন, হুমকির বিরুদ্ধে ‘চূড়ান্ত ও জোরালো’ জবাব দেওয়া হয়েছে এবং সামরিক অভিযান শেষ হয়েছে।
হুথিদের সৌদি জাহাজে হামলা ও দেশটির বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণার পর এ বিমান হামলা হলো। এর আগে লোহিত সাগরে সৌদি তেলবাহী জাহাজ এনসিসি মাসা হামলায় সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হলেও যাত্রা অব্যাহত রাখে বলে সৌদি সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা এখন পর্যন্ত দেখা সবচেয়ে গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে তেহরান এখনো চুক্তির জন্য প্রস্তুত নয় বলেও দাবি করেছেন তিনি। আলোচনা চলায় বড় ধরনের হামলার প্রয়োজন নাও হতে পারে বলে মন্তব্য করলেও সামরিক পদক্ষেপ পুরোপুরি বাতিল করেননি ট্রাম্প।
চীন ও রাশিয়া ইরানকে সরাসরি সামরিক সহায়তা দিচ্ছে না বলে নিজের বিশ্বাসের কথাও জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে এটি ট্রাম্পের মূল্যায়ন; স্বাধীনভাবে প্রমাণিত গোয়েন্দা তথ্য নয়। ইরানের হামলায় রাশিয়া লক্ষ্য নির্ধারণের তথ্য বা ড্রোন প্রযুক্তি দিয়েছিল কি না, তা মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তদন্ত করছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
আঞ্চলিক সংঘাত বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি মার্কিন দূতাবাস নাগরিকদের দ্রুত এলাকা ছাড়ার বিকল্প বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছে। একই সময়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ওমান উপসাগরে ইরানি বন্দর অবরোধ অমান্য করার অভিযোগে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালানো হয়েছে।
ইরানি বাহিনী ও তাদের মিত্ররা ইরাকের এরবিল, কুয়েতের উদাইরি এবং বাহরাইনে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে। বাহরাইন কয়েকটি আকাশপথের হামলা প্রতিহত করার কথা জানালেও ইরানের দাবি করা ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ বিবরণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।
ফ্যাক্ট চেক: হুদায়দাহ ও কামারান দ্বীপে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হামলা এবং অভিযান সমাপ্তির ঘোষণা নিশ্চিত হয়েছে। তবে বেসামরিক অবকাঠামো আক্রান্ত হওয়ার দাবি হুথিদের, আর কেবল সামরিক স্থাপনায় হামলার বক্তব্য সৌদি জোটের। একইভাবে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষয়ক্ষতির অধিকাংশ তথ্য ইরানি পক্ষের দাবি—স্বাধীন যাচাই এখনো অসম্পূর্ণ।
সূত্র: রয়টার্স