বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে দুই আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত ১৩ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) গভীর রাত থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত আশরাফুল হক হল ও শহীদ শামসুল হক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুই দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের লেভেল-১, সেমিস্টার-২-এর দুই শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত বিরোধ থেকে উত্তেজনার সূত্রপাত। একই ব্যাচের এক নারী শিক্ষার্থীকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ এ বিরোধের কেন্দ্রে ছিল। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তদন্ত শেষ না হওয়ায় সংঘর্ষের কারণটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত নয়।
অভিযোগ রয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে আশরাফুল হক হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী শহীদ শামসুল হক হলের এক শিক্ষার্থীর কক্ষে গিয়ে হুমকি দেন। পরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে দুই হলের শিক্ষার্থীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি আশরাফুল হক হলের জানালার কাচ, সিসিটিভি ক্যামেরা ও বৈদ্যুতিক বাতি ভাঙচুর করা হয়। রাতের সংঘর্ষে নয়জন আহত হন।
প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও শুক্রবার দুপুরে আবার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আব্দুল জব্বার মোড় এলাকায় এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগের পর দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে আরও চারজন আহত হন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ কেয়ার সেন্টারে মোট ১৩ শিক্ষার্থীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম ঘটনাটিকে দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে বলেছেন, জড়িত শিক্ষার্থীদের শনাক্ত করে বিধি অনুযায়ী শাস্তির আওতায় আনা হবে।
ফ্যাক্ট চেক: সংঘর্ষ, দুই দফায় মোট ১৩ জন আহত এবং প্রক্টরের বক্তব্য একাধিক প্রতিবেদনে মিলেছে। তবে ‘প্রেমিকাকে নিয়ে কটূক্তি’ বা ‘নারীঘটিত বিরোধ’ সংঘর্ষের নিশ্চিত কারণ নয়; এটি শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যনির্ভর অভিযোগ। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে শিরোনামে বিষয়টিকে প্রমাণিত কারণ হিসেবে উল্লেখ না করাই যথাযথ।