ঢাকা    বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ ২৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

উন্নয়ন প্রকল্পে সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি ঠেকাতে নতুন উদ্যোগ: প্রধানমন্ত্রী

উন্নয়ন প্রকল্পে সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি ঠেকাতে নতুন উদ্যোগ: প্রধানমন্ত্রী
ফাইল ছবি
ফলো করুন

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে বারবার মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতা কমাতে বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, প্রকল্পের সময় ও ব্যয় বাড়ার পেছনে একক কোনো কারণ নয়, বরং দুর্বল সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, সঠিকভাবে ব্যয় নির্ধারণ না করা, ভূমি অধিগ্রহণে বিলম্ব, ক্রয় প্রক্রিয়ায় জটিলতা, দুর্বল তদারকি ও জবাবদিহির ঘাটতিসহ একাধিক বিষয় দায়ী।

বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল সাড়ে ৩টায় সংসদের বৈঠক শুরু হয়। শুরুতেই প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত প্রশ্নের উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণত প্রকল্পের পরিকল্পনা, অনুমোদন, অর্থায়ন, ভূমি অধিগ্রহণ, ক্রয় ব্যবস্থাপনা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন দুর্বলতার কারণে হয়ে থাকে।

তিনি জানান, বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নতুন প্রকল্প গ্রহণের আগে আরও নির্ভুল সম্ভাব্যতা সমীক্ষা নিশ্চিত করা এবং অনুমোদনের পর দ্রুত বাস্তবায়ন প্রস্তুতি সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প প্রণয়ন, অনুমোদন ও সংশোধনসংক্রান্ত বিদ্যমান নীতিমালা সময়োপযোগী করার কাজ চলছে। একই সঙ্গে চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ড্যাশবোর্ড স্থাপন করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং মাঠপর্যায়ে তদারকি বাড়ানো হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ ও বিভিন্ন ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো হচ্ছে।

নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়া প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে বিলম্ব, ব্যয় বৃদ্ধি ও অন্যান্য সমস্যার কারণ খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, যেসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৩০ শতাংশের কম, সেগুলোর প্রয়োজনীয়তা ও কার্যকারিতা পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী এসব প্রকল্পের পরিধি পরিবর্তন, পুনর্বিন্যাস অথবা চলমান রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে প্রকল্প গ্রহণের পরিবর্তে সমন্বিত কর্মসূচির আওতায় গুচ্ছ প্রকল্প নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় ই-জিপির ব্যবহার আরও সম্প্রসারণ করা হবে।

প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও পেশাগত যোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান নীতিমালা হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) মডেলে প্রকল্প গ্রহণ বাড়ানো এবং সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক করতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুল ২০২৫ হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

ট্যাগ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি প্রকল্প

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


উন্নয়ন প্রকল্পে সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি ঠেকাতে নতুন উদ্যোগ: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে বারবার মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতা কমাতে বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, প্রকল্পের সময় ও ব্যয় বাড়ার পেছনে একক কোনো কারণ নয়, বরং দুর্বল সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, সঠিকভাবে ব্যয় নির্ধারণ না করা, ভূমি অধিগ্রহণে বিলম্ব, ক্রয় প্রক্রিয়ায় জটিলতা, দুর্বল তদারকি ও জবাবদিহির ঘাটতিসহ একাধিক বিষয় দায়ী।

বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল সাড়ে ৩টায় সংসদের বৈঠক শুরু হয়। শুরুতেই প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত প্রশ্নের উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণত প্রকল্পের পরিকল্পনা, অনুমোদন, অর্থায়ন, ভূমি অধিগ্রহণ, ক্রয় ব্যবস্থাপনা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন দুর্বলতার কারণে হয়ে থাকে।

তিনি জানান, বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নতুন প্রকল্প গ্রহণের আগে আরও নির্ভুল সম্ভাব্যতা সমীক্ষা নিশ্চিত করা এবং অনুমোদনের পর দ্রুত বাস্তবায়ন প্রস্তুতি সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প প্রণয়ন, অনুমোদন ও সংশোধনসংক্রান্ত বিদ্যমান নীতিমালা সময়োপযোগী করার কাজ চলছে। একই সঙ্গে চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ড্যাশবোর্ড স্থাপন করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং মাঠপর্যায়ে তদারকি বাড়ানো হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ ও বিভিন্ন ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো হচ্ছে।

নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়া প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে বিলম্ব, ব্যয় বৃদ্ধি ও অন্যান্য সমস্যার কারণ খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, যেসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৩০ শতাংশের কম, সেগুলোর প্রয়োজনীয়তা ও কার্যকারিতা পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী এসব প্রকল্পের পরিধি পরিবর্তন, পুনর্বিন্যাস অথবা চলমান রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে প্রকল্প গ্রহণের পরিবর্তে সমন্বিত কর্মসূচির আওতায় গুচ্ছ প্রকল্প নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় ই-জিপির ব্যবহার আরও সম্প্রসারণ করা হবে।

প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও পেশাগত যোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান নীতিমালা হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) মডেলে প্রকল্প গ্রহণ বাড়ানো এবং সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক করতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুল ২০২৫ হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ