ভারতে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলনের মধ্যে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিনিধিদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। তবে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন ও বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নয়াদিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাব অব ইন্ডিয়ায় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। সরকারের পক্ষে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং এতে অংশ নেন।
সিজেপির প্রতিনিধিদলে ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে, মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাসহ অন্য নেতারা। এর আগে দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ হলেও নিরপেক্ষ ভেন্যুতে এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক সংলাপ।
বৈঠক শেষে আন্দোলনকারীরা জানান, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ বা অপসারণের দাবি নিয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে সরকার শনিবার দুপুর পর্যন্ত সময় চেয়েছে। জেপি নাড্ডাও শনিবার দুই পক্ষের আবার বৈঠক হওয়ার কথা জানিয়েছেন।
সিজেপির নেতারা বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, পরীক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কার এবং প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যন্তর মন্তরের অবস্থান ও দেশব্যাপী কর্মসূচি চলবে।
এদিকে টানা ২৬ দিন অনশনের পর শুক্রবার রাতের প্রথম প্রহরে অনশন ভাঙেন শিক্ষা ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের উপস্থিতিতে দীর্ঘ আলোচনার পর তিনি অনশন শেষ করেন। সম্ভাব্য সহিংসতা এড়ানো এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের সুযোগ তৈরির কথা বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান ওয়াংচুক।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নফাঁসের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন এবং কঠোর আইন প্রণয়নের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, শুধু শাস্তি কঠোর করলেই সংকটের সমাধান হবে না; পরীক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি ও কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে হবে।
নিরাপত্তাজনিত নির্দেশনার কথা জানিয়ে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে মধ্য দিল্লির ১৭টি মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখে দিল্লি মেট্রো কর্তৃপক্ষ। এর আগের দিন ১৬টি স্টেশনে সেবা স্থগিত থাকায় সাধারণ যাত্রীদের ব্যাপক ভোগান্তি হয়।
সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস