ঢাকা    সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

বিদ্যুৎ সংকটের প্রকৃত চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জামায়াত আমিরের

বিদ্যুৎ সংকটের প্রকৃত চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জামায়াত আমিরের
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

দেশের বিদ্যুৎ সংকটের প্রকৃত চিত্র আড়াল না করে জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তার দাবি, দেশের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে এখনো ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকে না। এ ধরনের পরিস্থিতি কোনো আশ্বাস বা অজুহাত দিয়ে আড়াল করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ৬৮ বিধির আলোচনায় অংশ নিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরেন বিরোধীদলীয় নেতা। সংকট মোকাবিলায় সরকারের নীতি ও পদক্ষেপে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদে বিদ্যুতের মিটার ও ডিমান্ড চার্জ বাতিলের কথা বলা হলেও বাস্তবে এখনো এসব চার্জ আদায় করা হচ্ছে। অতীতে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার জন্য তৈরি করা ব্যবস্থাগুলো থেকে বের হয়ে আসার প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে শুধু আগের সরকারকে দায়ী না করে বিদ্যুৎ সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিদ্যুৎ খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি না থাকলে বড় বড় পরিকল্পনা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন না হয়ে কাগজে সীমাবদ্ধ থাকার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। ক্যাপাসিটি চার্জ এবং কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মেয়াদ বাড়ানোর যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিরোধীদলীয় নেতা।

তার ভাষ্য, কুইক রেন্টাল কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে সাধারণত তিন বছরের চুক্তি করা হয়েছিল, যাতে প্রাথমিক বিনিয়োগের ব্যয় উঠে আসে। কিন্তু চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়া হলে তা জনগণের অর্থের অপচয় হিসেবে দেখা দিতে পারে। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা না নিলে ভবিষ্যতেও একই ধরনের অনিয়মের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।

সংসদে দেওয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি ও বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন ডা. শফিকুর রহমান। তার মতে, বিভিন্ন বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা কার্যকর হয়নি। সরকারি নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বা স্বজনের স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বিদ্যুৎ সংকটের বাস্তব অবস্থা জনগণের কাছ থেকে গোপন না করে সঠিক তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রামাঞ্চলের অনেক এলাকায় এখনো দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকে না। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং সম্ভাব্য সময়সূচি জনগণের সামনে প্রকাশ করলে মানুষও পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিতে পারবে।

সংকট সমাধানে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে কারিগরি সহযোগিতার প্রস্তাব দেন তিনি। পাশাপাশি সরকারি দল, বিরোধী দল এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স বা সেল গঠনের পরামর্শ দেন ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সংকট কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের একক সমস্যা নয়। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই রাজনৈতিক বিবেচনার বাইরে গিয়ে জাতীয় স্বার্থে সংকট মোকাবিলায় কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

রাজনৈতিক ক্ষমতা ও পদ স্থায়ী নয় উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা দায়িত্বশীলদের অতীতের ঘটনাগুলো থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জনগণের দুর্ভোগ কমাতে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সরকারি কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা, নৈতিকতা ও বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বিদ্যুৎ সংকটের প্রকৃত চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জামায়াত আমিরের

প্রকাশের তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

দেশের বিদ্যুৎ সংকটের প্রকৃত চিত্র আড়াল না করে জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তার দাবি, দেশের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে এখনো ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকে না। এ ধরনের পরিস্থিতি কোনো আশ্বাস বা অজুহাত দিয়ে আড়াল করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ৬৮ বিধির আলোচনায় অংশ নিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরেন বিরোধীদলীয় নেতা। সংকট মোকাবিলায় সরকারের নীতি ও পদক্ষেপে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদে বিদ্যুতের মিটার ও ডিমান্ড চার্জ বাতিলের কথা বলা হলেও বাস্তবে এখনো এসব চার্জ আদায় করা হচ্ছে। অতীতে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার জন্য তৈরি করা ব্যবস্থাগুলো থেকে বের হয়ে আসার প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে শুধু আগের সরকারকে দায়ী না করে বিদ্যুৎ সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিদ্যুৎ খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি না থাকলে বড় বড় পরিকল্পনা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন না হয়ে কাগজে সীমাবদ্ধ থাকার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। ক্যাপাসিটি চার্জ এবং কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মেয়াদ বাড়ানোর যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিরোধীদলীয় নেতা।

তার ভাষ্য, কুইক রেন্টাল কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে সাধারণত তিন বছরের চুক্তি করা হয়েছিল, যাতে প্রাথমিক বিনিয়োগের ব্যয় উঠে আসে। কিন্তু চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়া হলে তা জনগণের অর্থের অপচয় হিসেবে দেখা দিতে পারে। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা না নিলে ভবিষ্যতেও একই ধরনের অনিয়মের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।

সংসদে দেওয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি ও বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন ডা. শফিকুর রহমান। তার মতে, বিভিন্ন বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা কার্যকর হয়নি। সরকারি নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বা স্বজনের স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বিদ্যুৎ সংকটের বাস্তব অবস্থা জনগণের কাছ থেকে গোপন না করে সঠিক তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রামাঞ্চলের অনেক এলাকায় এখনো দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকে না। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং সম্ভাব্য সময়সূচি জনগণের সামনে প্রকাশ করলে মানুষও পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিতে পারবে।

সংকট সমাধানে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে কারিগরি সহযোগিতার প্রস্তাব দেন তিনি। পাশাপাশি সরকারি দল, বিরোধী দল এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স বা সেল গঠনের পরামর্শ দেন ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সংকট কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের একক সমস্যা নয়। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই রাজনৈতিক বিবেচনার বাইরে গিয়ে জাতীয় স্বার্থে সংকট মোকাবিলায় কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

রাজনৈতিক ক্ষমতা ও পদ স্থায়ী নয় উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা দায়িত্বশীলদের অতীতের ঘটনাগুলো থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জনগণের দুর্ভোগ কমাতে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সরকারি কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা, নৈতিকতা ও বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ