চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় তার সাবেক স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ আগস্ট দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা ছিল। তবে তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত বছরের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম মামলাটি করেন।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসা থেকে সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার প্রকৃত নাম ছিল চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন। মৃত্যুর সময় তিনি দেশের অন্যতম জনপ্রিয় চলচ্চিত্র তারকা ছিলেন।
ঘটনার পর সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী প্রথমে একটি অপমৃত্যু মামলা করেন। পরে ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে তদন্তের আবেদন জানান তিনি।
আদালতের নির্দেশে সিআইডি তদন্ত শেষে ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। সেখানে সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়।
সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে সালমান শাহর বাবা রিভিশন আবেদন করেন। পরে ২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠানো হয়।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট বিচার বিভাগীয় প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। ওই প্রতিবেদনেও হত্যার অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়।
বাবার মৃত্যুর পর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী মামলার কার্যক্রম চালিয়ে যান। ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি বিচার বিভাগীয় প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেন এবং ১১ জনের বিরুদ্ধে সন্দেহের কথা জানান।
পরবর্তী সময়ে র্যাব মামলাটির তদন্ত শুরু করলেও রাষ্ট্রপক্ষের আপত্তির পর ২০১৬ সালে আদালত সংস্থাটিকে তদন্ত না করার নির্দেশ দেন।
এরপর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা পিবিআই তদন্তের দায়িত্ব পায়। চার বছর তদন্তের পর ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তারা চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।
পিবিআই জানায়, ৫৪ জন সাক্ষীর বক্তব্য, জব্দ করা আলামত এবং অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে হত্যার অভিযোগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তাদের প্রতিবেদনে পারিবারিক বিরোধ ও মানসিক চাপের কারণে সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছিলেন বলে মত দেওয়া হয়। তবে এ প্রতিবেদনও প্রত্যাখ্যান করেন তার মা।
২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর ঢাকার একটি আদালত পিবিআইয়ের প্রতিবেদন গ্রহণ করে অভিযুক্তদের অব্যাহতি দেন। পরে সালমান শাহর পরিবার ওই আদেশের বিরুদ্ধে মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন আবেদন করে।
২০২২ সালের ১২ জুন রিভিশন আবেদন গ্রহণ করা হলেও বিভিন্ন কারণে শুনানি দীর্ঘদিন ঝুলে ছিল।
গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত নীলা চৌধুরীর রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট জবানবন্দি যুক্ত করে হত্যা মামলা গ্রহণ এবং তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, এজাহারভুক্ত ও অজ্ঞাতনামা আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরস্পরের যোগসাজশে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহকে হত্যা করেছেন। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।